সড়ক ও ফুটপাতে নির্মাণসামগ্রী রাখতে বারবার নিষেধ করলেও ভবন নির্মাতারা আমলে না নেওয়ায় তা নিলামে তুলতে শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে এ নিলাম কার্যক্রম। এ সময় আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে অনুমোদনহীন সকল সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড উচ্ছেদ শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন ডিএনসিসির মেয়র মেয়র আতিকুল ইসলাম।
প্রথম দিনে ৩২টি নিলাম করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব নিলামের মাধ্যমে আদায় হয়েছে ১৩ লাখ ৮ হাজার ৫৯০ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন অভিযোগে আরও সাত লাখ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ডিএনসিসি মেয়র নিজে উপস্থিত থেকে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজাসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার অভিযানের শুরুতে গুলশানের ৮৬ নম্বর সড়কে যান মেয়র আতিকুল ইসলাম। সেখানে একটি নির্মাণাধীন ভবনের সামনের ফুটপাতে রডসহ নির্মাণসামগ্রী রাখা ছিল। দায়িত্বশীল কাউকে না পেয়ে রডগুলো জব্দ করা হয়। পরে এগুলো নিলামে তোলেন ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল হামিদ মিয়া। এ সময় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির কাছে ফুটপাত দখল করে মালামাল রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দিতে পারেননি। পরে সেগুলো নিলাম করা হয়। পাঁচ জন নিলামে অংশ নেন। মাহমুদ মোল্লা নামে একজন সর্বোচ্চ দামে ৪৯ হাজার টাকায় রডগুলো ও রড কাটার মেশিন কিনে নেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, 'বার বার সর্তক করার পরও কেউ পাত্তা দেয়নি। তাই এগুলো নিলামে দেওয়া হয়েছে। এখন এসব সরকারি মাল। যিনি নিলামে কিনেছেন তিনি ছাড়া কেউ ধরতে পারবেন না।'
পরে গুলশানের ৬৭ নম্বর সড়কে যান মেয়র আতিকুল ইসলাম। ৯ নম্বর বাড়িতে নির্মাণাধীন ভবনের সামনে রাখা কয়েক টন রড জব্দ করা হয়। সেগুলোও নিলামে তোলা হয়। এক ব্যক্তি ৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় এসব রড কিনে নেন। এ সময় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইনস্টার লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মেজবাউল হাসানকেও দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি রাস্তা-ফুটপাত কাউকে দখল করে রাখতে দেওয়া হবে না। প্রতি সপ্তাহে একদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এভাবে অভিযান চলবে। বড় বড় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জনগণের রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে রেখেছে। অনেক বলার পরও তারা কানে তোলেনি। এ জন্য এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিন ডিএনসিসি এলাকার ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলে একযোগে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এ অভিযান চলে। মেয়র আতিকুল ইসলাম গুলশানের ৮৬, ৮৭, ৬৭ নম্বর রোড এবং বনানীর ১৫ নম্বর রোড পরিদর্শন করে ফুটপাত ও সড়কের উপর রড, ইট ইত্যাদি দেখতে পেয়ে ক্ষুব্ধ হন। পরে ডিএনসিসির মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ভবন নির্মাণকারীদের জরিমানা করা হয় এবং নির্মাণসামগ্রী তাৎক্ষণিক নিলামে বিক্রি করা হয়। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এক হাজার ২০০টি অবৈধ স্থাপনা, টং দোকান, শেড ইত্যাদি উচ্ছেদ করা হয়।
মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ফুটপাত ও রাস্তার মধ্যে নির্মাণসামগ্রী কেন রাখবেন? এর ফলে ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। / সম