রোগী ও তাঁদের স্বজনদের হয়রানি রোধে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে ২৪ জন দালালকে গ্রেফতারের পর প্রত্যেককে ১ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টা অভিযান পরিচালনা করেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু। এই সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা র্যাবকে সহায়তা করেন।
অভিযান শেষে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেফতারকৃত দালালরা ঢামেক হাসপাতালে আসা নিরীহ রোগীদের সরকারি হাসপাতালের চেয়ে কম খরচে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও খ্যাতনামা অধ্যাপকদের দিয়ে দ্রুত অস্ত্রোপচারের সুব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেতো।
তিনি আরও বলেন- আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে, হাসপাতাল-১, ২ এবং বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটকে ঘিরে সংঘবদ্ধ দালালচক্র গড়ে উঠেছে। তারা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ছোট বড় ও নামসর্বস্ব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্ড, স্লিপ প্যাড ইত্যাদি নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, ওটি, আইসিইউ, সাধারণ ওয়ার্ড ও কেবিনের আশপাশে ঘুরে বেড়ায়।
তিনি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নিরীহ, দরিদ্র ও অসহায় যাদের বেশিরভাগ গ্রাম থেকে আসেন, চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানেন না তাদেরকে টার্গেট করে আপনজনের মতো ব্যবহার করে কম খরচে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অস্ত্রোপচার করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখায় তারা। অনেক সময় জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগ থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে যায় এসব দালালরা। আবার তারা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরেও রোগীদের টার্গেট করে। বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের জন্য অপেক্ষমাণ রোগীদের কাছে গিয়ে অল্প টাকায় ভালো ডাক্তার দিয়ে দ্রুত অস্ত্রোপচারের প্রলোভন দেখায়। অনেক সময় না বুঝে ফাঁদে পা দিয়ে তাদের সংগে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে কম টাকা জমা দিয়ে ভর্তি হয়ে ফেঁসে যান। পরে বিভিন্নভাবে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয় বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল দালালমুক্ত রাখতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু। / বাংভি