১২ বছরে ১৪ বার পানির দাম বাড়িয়ে ঢাকা ওয়াসা। এবার আরও এক ধাপ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে এ নিয়ে ওয়াসার বোর্ড সভার ১৩ সদস্যের মধ্যে নানা মত দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন করোনাকালে এমন সিদ্ধান্ত হবে অমানবিক। সোমবার ৭ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সভা সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।
ঢাকা ওয়াসা গত দুই বছরে দুইবার আবাসিক ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে পানির দাম বাড়িয়েছে। বর্তমানে আবাসিক এলাকায় প্রতি ১ হাজার লিটার দাম পড়ছে ১৫ টাকা ১৮ পয়সা। এটাকে বাড়িয়ে ২১ টাকা ২৫ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে ওয়াসার বোর্ড সভায়। এছাড়া বাণিজ্যিক সংযোগের ক্ষেত্রে প্রতি ১ হাজার লিটার পানির বর্তমান দাম ৪২ টাকা চলছে, এটার দাম বাড়িয়ে ৫৮ দশমিক ৮ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে সভায়।
ওয়াসার পানির দাম বাড়ানোর জন্য এটি কেবল প্রস্তাব করা হয়েছে সবশেষ বোর্ড সভায়। যদিও সেখানে বোর্ড সদস্যদের বেশিরভাগই এই মুহূর্তে পানির দাম না বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। পরবর্তিতে দাম বাড়ানোর এই প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। যদি সেখান থেকে এ বিষয়ে অনুমোদন হয় তাহলে পানির দাম বাড়বে। আর পানির নতুন দাম কার্যকর হবে আগামী ১ জুলাই থেকে।
সবশেষ গত বছর ঢাকা ওয়াসার পানির দাম বাড়ানোর পর আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি ১ হাজার লিটার পানির দাম দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ১৮ পয়সা। এর আগে ১ হাজার লিটার পানির দাম পড়ত ১৪ টাকা ৪৬ পয়সা। অন্যদিকে বাণিজ্যিক সংযোগের ক্ষেত্রে প্রতি এক হাজার লিটার পানির দাম পড়ছে ৪২ টাকা। এর আগে সেটা দিতে হত ৪০ টাকা।
তবে বোর্ড সভায় পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিষয়ে গণমাধ্যমে কিছুই বলছেন না ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান।
বোর্ডে সভায় অংশ নেওয়া এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পানির উৎপাদন খরচের সঙ্গে সমন্বয় করতে সভায় পানির দাম বাড়ানোর বিষয়ে প্রস্তাব উঠেছে। তবে বেশিরভাগ সদস্য এই প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাই এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।