সোমবার রাতের পর মঙ্গলবার সকাল থেকে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীর নিউমার্কেট ও ঢাকা কলেজ এলাকা। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের এই সংঘর্ষে অচল হয়ে পড়েছে গোটা এলাকা। বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরণের যানবাহন। ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক শত পথচারী। এর ফলে অন্য সড়কগুলোতেও দেখা দিয়েছে তীব্র জানজট।
ঢাকা কলেজের মূল ফটকের ভেতরে থাকা ছাত্রদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ঢাকা কলেজের ভবনের ছাদ থেকে নিউ মার্কেটের দিকে ইট-পাটকেল ছুটতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হলে ঐ এলাকা যুদ্ধ ক্ষেত্রে পরিনত হয়।
ছাত্রদের মধ্যে অনেককে হেলমেট পরে হাতে লাঠি নিয়ে সংঘর্ষে জড়াতে দেখা গেছে। ইটের আঘাতে বেশ কয়েকজনকে আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পুলিশের তৎপরতা দেখা যায়নি।
নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা ওভার ব্রিজের নিচে অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে চন্দ্রিমা মার্কেটের সামনে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীরা। বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে অন্তত তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
রাতের সংঘর্ষের জেরে সকাল থেকে নীলক্ষেত মোড়ে জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। ফলে সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে আজিমপুর পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী ও দুই ব্যবসায়ী আহত হন। আহত হন বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও।
এর আগে গতকাল সোমবার রাত ১২টার দিকে খাওয়ার বিল দেওয়া নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল ছোড়ে পুলিশ। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গতকাল আমাদের কয়েকজন জুনিয়র খাবার খেতে গেলে বিল বেশি রাখা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তাঁদের মারধর করেন ব্যবসায়ীরা। মারধরের কারণ জানতে গেলে ১০-১২ জন ছাত্রকে তাঁরা আটকে রাখেন।
এদিকে ঢাকা কলেজসহ সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মানববন্ধন করা হবে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও তদন্তের দাবি জানানো হবে।
মধ্যরাতে সংঘর্ষের পর ঢাকা কলেজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ঘোষণা দেওয়া হয়, ‘অনিবার্য কারণে ১৯ এপ্রিল, মঙ্গলবার ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক ও অনার্স-মাস্টার্স শ্রেণির সকল ক্লাস ও পরীক্ষাসমূহ স্থগিত করা হলো। সকল শিক্ষককে সকাল ১০টার মধ্যে কলেজে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো।’