টানা ৪ ঘন্টা ধাওয়া পাল্টা ও সংঘর্ষের পর নিউমার্কেট ও ঢাকা কলেজ এলাকা এখন থমথমে। দোকানপাট বন্ধ। গাড়ি চলাচল নেই। থেমে থেমে হামলা হচ্ছে। নিউমার্কেটের দিকে অবস্থান নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকা কলেজের ছাত্রদের একটি অংশ কলেজের ছাদে, আরেকটি অংশ চন্দ্রিমা মার্কেটের সামনে অবস্থান নিয়েছে। সব মিলিয়ে ধানমন্ডি-২ থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
থেমে থেমে এখনো হামলা হচ্ছে। কখনও ব্যবসায়ীরা হামলা করছেন, কখনও শিক্ষার্থীরা। সোমবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত শতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহতদের বেশির ভাগ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন, কাজী সুমন (২৫), অজানা (২৪), কবীর (৩৮), সাজ্জাদ (৪৫), সাগর (১৮), আপেল (৩৫), রাজু (১৬), রাসেল (১৪), রাহাদ (১৯), আলিফ (২২), মহিউদ্দিন (২৬), রুবেল (২৫), আরাফাত জামান (১৮), ইয়াসিন (১৭), নাজমুল (২০), রায়হান (১৭), রাসেল (২৬), হৃদয় (১৮), মেহেদী (১৮), আকন্দ (২৩), রিমা (২০), মুন্না (২২), নাসির (২৪) ও আকাশ (২২)।
ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।
এছাড়া ধানমন্ডির পপুলার, গণস্বাস্থ্য ও স্কয়ার হাসপাতালেও অনেকে ভর্তি হয়েছেন। স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি একজনের অবস্থা গুরুতর বলেও জানা গেছে।
ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘাত থামাতে টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করছেন তারা।
নিউমার্কেটের সামনে টায়ারে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। টায়ারের পাশাপাশি ফুটপাতে থাকা দোকানের জিনিসপত্রেও আগুন জ্বলছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, শিগগিরই এই সংঘাত থামানো সম্ভব হবে।
সোমবার মধ্যরাত থেকে নিউমার্কেট এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ হচ্ছে; এত দীর্ঘ সময় পরও কেন এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন মন্ত্রীর সামনে রেখেছিলেন সাংবাদিকরা।
উত্তরে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, কিছুক্ষণের মধ্যেই এ ঘটনা কুল ডাউন হবে। যারা এ ঘটনার জন্য দায়ী তাদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
মধ্যরাতে সংঘর্ষের সময় পুলিশ দ্রুত তৎপর হলেও সকালে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশকে এতটা উদ্যোগী হতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ঢাকার পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
উত্তরে পুলিশ কমিশনার বলেন, পরিস্থিতি অনেক জটিল আকার ধারণ করেছে। টেকনিক্যাল কারণেই ছাত্রদের প্রতি সফট আচরণ করছে পুলিশ। এখানে গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।