দুই দোকানকর্মীর সাথে কথা কাটাকাটির জেরে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে সংঘর্ষে জড়ায় নিউমার্কেটের দোকানমালিক–কর্মচারীরা। ঘটনার পর এখনো নিউমার্কেটের দোকান বন্ধ রয়েছে। মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, ঈদের সামনে দোকান বন্ধ রাখায় অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে তাদের। তারপরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুরোধে সমঝোতার আগ পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
আজ (২০ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল, নিউমার্কেটসহ আশপাশের সব মার্কেটই বন্ধ আছে। সকাল থেকে কিছু দোকানের কর্মচারীকে দেখা গেছে। তবে সকাল সোয়া ১০টা থেকে ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের ভিড় বাড়ে।
নিউমার্কেট এলাকার সড়ক সকাল পর্যন্ত শান্ত দেখা গেছে। সড়কে ব্যবসায়ী-কর্মচারী, শিক্ষার্থীদের কাউকে দেখা যায়নি। ঐ এলাকার সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
দোকান খোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলে জানান নিউমার্কেট দোকান সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে দেখা করেছেন তারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দুই পক্ষের সমঝোতার কথা বলেছেন তারা। তাদের ধারণা সমঝোতা ছাড়া দোকান খুললে যেকোনো সময় আবার সংঘর্ষ বাধতে পারে। তাদের কথা শোনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছেন। এ অবস্থায় নিউমার্কেট দোকান সমিতি আজ দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে দোকান বন্ধ থাকলেও মার্কেটের সামনে ভীড় করছেন কর্মচারীরা। ঢাকা কলেজের উল্টো পাশে অবস্থিত নূরজাহান মার্কেট, গ্লোব মার্কেট, নিউমার্কেটের উল্টো পাশের চাঁদনীচক, গাউছিয়াসহ সব মার্কেটের সামনেই ব্যবসায়ী ও তাঁদের কর্মচারীদের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। নীলক্ষেত মোড় ও নিউমার্কেট এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি রয়েছে। অবশ্য নীলক্ষেতের বইয়ের মার্কেটের বাইরের অংশ বন্ধ থাকলেও ভেতরের কিছু দোকান খুলেছে।
আমিনুল ইসলাম জানান, নিউমার্কেট ও আশপাশের বিপণিবিতাণগুলোতে ব্যবসায়ী ও কর্মচারী আছেন ৫০ লাখের মতো। শিক্ষার্থীও আছেন বিপুলসংখ্যক। এমন পরিস্থিতিতে সমঝোতা না হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। সেটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।
গত সোমবার রাতে আড়াই ঘণ্টা সংঘর্ষের পর গতকাল মঙ্গলবার সকালে আবার ঢাকা কলেজের ছাত্র ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দিনভর থেমে থেমে সংঘর্ষের পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুই পক্ষ শান্ত হয়। সংঘর্ষের কারণে গতকাল নিউমার্কেটসহ আশপাশের অন্তত ২০টি মার্কেট বন্ধ ছিল। ঈদ সামনে রেখে বেচাকেনার মৌসুমে এমন ঘটনায় ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
এদিকে সংঘর্ষ চলার পর গতকাল বিকেলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপুমনি বলেছেন ঢাকা কলেজের ঈদের ছুটি গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে কার্যকর করা হয়েছে। এরপর বিকেলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ টি এম মইনুল হোসেন ঢাকা কলেজের আবাসিক হল ৫ মে পর্যন্ত বন্ধের ঘোষণা দিলে কিছুক্ষণ ছাত্রদের দ্বারা অবরুদ্ধ হন তিনি। শিক্ষার্থীরা যেকোনো ভাবে হলে অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে।
…………….