নিউ মার্কেটে এক দোকানে খেতে যাওয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দোকানকর্মীদের তর্কাতর্কিকে সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে এমনটাই বলা হচ্ছে। তবে সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে ভিন্ন ঘটনা দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ওই বিপণির ব্যবসায়ীদের নেতা।
নিউ মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি শাহীন আহমেদ গণমাধ্যমকে একথা বলেন। তিনি বলেন, দুই দোকানের রেষারেষি থেকে এই সংঘাতের সূত্রপাত বলে তিনি একটি সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখতে পেয়েছেন।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী এবং দোকান মালিক উভয় পক্ষই শুরুতে জানিয়েছিল, ক্যাপিটাল হোস্টেল নামে এক খাবার দোকান থেকে সংঘর্ষের শুরু।
ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান, তিনজন শিক্ষার্থী রাতে খেতে যায়। খাবারের দাম একটু কম দিতে চেয়েছিল তারা। এসময় ঝগড়ার এক পর্যায়ে দোকানে থাকা ধারালো ছুরি নিয়ে শিক্ষার্থীদের গুরুতর জখম করে দোকানিরা।
নিউ মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি শাহীন জানান, ওই খাবারের দোকানের লোকজনের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বাকবিতণ্ডার পর ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়।
কিন্তু পরে তিনি আবার জানান, নিউ মার্কেটের ৪ নম্বর গেইটের কাছে একটি খাবারের দোকানের লোকজনের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বাকবিতণ্ডার পর ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে এসে হামলা চালায়।
তিনি বলেন, কিন্তু সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে মনে হলো- শিক্ষার্থীদের আমরা (ব্যবসায়ী) আমন্ত্রণ করে এনেছি।
সভাপতি শাহীন বলেন, সোমবার সন্ধ্যা থেকেই ইফতারির দোকান বসানো নিয়ে পাশাপাশি দুটি দোকানের কর্মচারীদের মধ্যে ঝামেলা চলছিল। এক পর্যায়ে হাতাহাতিও হয়, তখনই এক কর্মচারী ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীর সঙ্গে খাতির আছে বলে ডেকে আনে (শিক্ষার্থীদের)। পরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঢাকা কলেজের ১০-১২ জন শিক্ষার্থীকে ডেকে আনার পর তারা ক্যাপিটাল হোস্টেলের কর্মীদের কাছে মার খায় বলে জানান শাহিন। পরে তারা হোস্টেলে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও নিয়ে আসে।
নিউ মার্কেটের ৫৫০টি দোকান রয়েছে জানিয়ে সভাপতি বলেন, অনেক দোকানদারের ভাই বা আত্মীয়-স্বজন ঢাকা কলেজসহ অনেক জায়গায় পড়াশোনা করে থাকে।
এদিকে, ঈদের আগে যখন বেচা-কেনার ব্যস্ত সময়, তখন এই সংঘাতের অবসান দ্রুত চাইছেন নিউ মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির সভাপতি শাহিন।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের নিউ মার্কেট জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহেনশাহ বলেন, পুলিশ ওই সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।”
বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন বলে জানান ঢাকা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ টি এম মইনুল হোসেন বলেন।
মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে এক দফা সংঘর্ষের পর দিনভর সংঘর্ষ চলে নিউ মার্কেটসহ আশপাশের দোকানকর্মীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের। এতে একজন নিহত এবং অর্ধশত আহত হয়।