আবার তেঁতুলতলার মাঠে ফিরতে পেরেছে শিশু–কিশোরেরা। আনন্দ আর উচ্ছ্বাসের শেষ নেই যেন তাদের। দীর্ঘ দুই মাস মাঠ ছিল পুলিশের দখলে।খেলতে এলে ফরিয়ে দিত পুলিশ। এখন খেলতে পেরে মানসিকভাবে বেশ আনন্দে আছে শিশুরা। আজ শুক্রবার রাজধানীর কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠে আসা শিশুরা তাদের প্রতিক্রিয়া জানায়।
বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে মাঠে গিয়ে দেখা যায় দুই দলে ভাগ হয়ে ফুটবল খেলছে তারা। ইট দিয়ে গোলবার তৈরি করেছে। মাঠ থেকে পুলিশকে সরিয়ে নেওয়ায় তাদের মতো স্থানীয়রা খুব খুশি। তারা চান কারও মালিকানায় না রেখে মাঠটি স্বতন্ত্র থাকুক। খেলার সুযোগ থাকুক যুগ যুগ ধরে। যেন শিশুদের শরীর-মন ভালো থাকে। তারা বিপথে যায় না।
কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠটি স্কয়ার হাসপাতালের উল্টো দিকের একটি গলিতে। আয়তন ২০ শতাংশের একটি খালি জায়গা এটি। বছরজুড়ে এখানে জানাজা, ঈদের নামাজ ও সামাজিক অনুষ্ঠান হয়।
জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে প্রায় ২৮ কোটি টাকায় পুলিশ জায়গাটি বরাদ্দ নেয়। পরে কলাবাগান থানার ভবন নির্মাণের চেষ্টা করে তারা। এ জন্য সীমানাপ্রাচীরও দেয়া হয়।
দীর্ঘ দিন ধরে মাঠটি রক্ষায় আন্দোলন চলছিল। এর মধ্যে গত রোববার মাঠটি রক্ষার দাবিতে আন্দোলনকারী সৈয়দা রত্না ও তাঁর কিশোর ছেলেকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। পরে ১৩ ঘণ্টা কলাবাগান থানায় আটকে রাখে তাদের। এরপর প্রতিদিনই মাঠ রক্ষার আন্দোলন নতুন গতি পায়। এতে যুক্ত হয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।
বৃহস্পতিবার(২৮ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মাঠটিতে থানা নির্মাণ হবে না। জায়গাটি যেভাবে ছিল, সেভাবেই থাকবে। এটি আগের মতো এলাকাবাসী ব্যবহার করবে।