ঈদ যাত্রায় মানুষের স্রোত এখনো চলছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে সোমবার বা মঙ্গলবার হবে পবিত্র ঈদ। ফলে ঢাকা ছাড়ার শেষ সময় এখন। বাস-ট্রেন-লঞ্চসহ ব্যক্তিগত যানবাহন করেও অনেকে ছুটছেন গ্রামের পথে। কমলাপুর রেলস্টেশনে রোববারও ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। প্লাটফর্মে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও অনেক ট্রেন আবার যাত্রী নিয়ে কমলাপুর আসে।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রোববার সকাল থেকেই স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। দুপুরের পর থেকে কমতে থাকে যাত্রীর চাপ। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৪৬টি ট্রেন যাত্রী নিয়ে প্লাটফর্ম ছেড়ে গেছে। রাত ১২টা পর্যন্ত ৭০টির বেশি ট্রেন যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার কথা রয়েছে।
দুপুরে দিকে দেখা যায়, বিভিন্ন কাউন্টার থেকে টিকিট কাটছেন যাত্রীরা। অনেকে আবার টিকিট ফেরত দিচ্ছেন। প্লাটফর্মের ভেতরে হাজারো যাত্রী ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ৩ নম্বর প্লাটফর্মে, সিলেটগামী কালনী এক্সপ্রেস ৬ নম্বর প্লাটফর্মে, চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী রাজশাহী কমিউটার ৭ নম্বর প্লাটফর্মে অবস্থান করে যাত্রী তুলছে।
বেলা ১১টায় কমলাপুর রেলস্টেশনে পরিবার নিয়ে হাজির হন তানভির রানা। যাবেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে। কিন্তু ট্রেন দেরি করায় প্লাটফর্মে ঘোরাঘুরি করছিলেন তারা।
আলাপকালে তানভীর বলেন, নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে প্লাটফর্মে এসেছি। কিন্তু দুপুর দেড়টায়ও ট্রেন আসেনি। এভাবে যাত্রীদের হয়রানি করার কোনো মানে হয় না।
চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস বিকেল সাড়ে ৪টায় ছেড়ে যাবে। ট্রেনটি ১টার দিকে প্লাটফর্মে আসে। অনেক যাত্রীকে আগেভাগেই ট্রেনে উঠে বসে থাকতে দেখা গেছে।
মিজানুর রহমান নামে এক যাত্রী বলেন, প্রতিবছরই ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট কাটা নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এখন ট্রেনে বসে আছি। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি।
সার্বিক বিষয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, প্রায় প্রতিটি ট্রেনই নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে। গত ২৭ এপ্রিল থেকে দিনে গড়ে ৫৩ থেকে ৬০ হাজার যাত্রী কমলাপুর থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছে।