রাজধানীর কদমতলী, কামরাঙ্গীরচর ও রামপুরা থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে একজন নারী রয়েছে।
যাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তারা হলেন- কদমতলীর ট্রাক হেলপার মাসুদ (৪৫), কামরাঙ্গীরচরের গৃহবধূ ফাহিমা আক্তার বৃষ্টি (২২) ও রামপুরার দিনমজুর মোস্তাক আহমেদ (৩৮)।
মঙ্গলবার (১৪ জুন) বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে মরদেহ তিনটির ময়নাতদন্ত করা হয়। এরপর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে থানা পুলিশ।
কদমতলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহসীন আলী সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, সকাল ১০টার দিকে কদমতলী জিয়া সরণি খানকা রোড ইসমাইল মোল্লা বাড়ি থেকে মাসুদের লাশ উদ্ধার করা হয়। পারিবারিক কলহের কারণে সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এদিকে মাসুদের ভায়রা মো. সুমন জানান, মাসুদের বাড়ি বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায়। বাবার নাম দেলোয়ার হোসেন। স্ত্রী নাসিমা আক্তার ও ১ ছেলেকে নিয়ে কদমতলীর ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতো। মাসুদ মাদকাসক্ত ছিল। কোন কাজই সে ঠিকমতো করতো না। এই নিয়ে তার স্ত্রীর সাথে প্রায় সব ঝগড়া বিবাদ হতো। আজ সকাল ৯টার দিকে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে স্ত্রীকে মারধরও করে সে। এক পর্যায়ে বাসার ভেতর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে।
এদিকে কামরাঙ্গীরচর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুসরাত জাহান নুপুর সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, আজ সকাল ৮টার দিকে কামরাঙ্গীরচর পশ্চিম মোমিনবাগ ৭ নম্বর গলির হাজী কামালের বাড়ি থেকে বৃষ্টির লাশ উদ্ধার করা হয়।
বৃষ্টির ফুফাতো ভাই আব্দুস সালাম জনি জানান, ৪ বছর আগে স্কুল শিক্ষক রাজু আহমেদের সাথে প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে হয় বৃষ্টির। ৫ মাস বয়সী একটি মেয়ে আছে তাদের। পারিবারিক বিভিন্ন কারণে একমাস আগে সে রাগ করে বাবার বাড়ি চলে আসে। এরপর তার স্বামী আবার তাকে বুঝিয়ে বাসায় নিয়ে যান। সোমবার দিবাগত রাতে স্বামীর সাথে পারিবারিক বিষয়টি নিয়ে আবার ঝগড়াঝাটি হয় তার। এক পর্যায়ে স্বামী-সন্তান ঘুমিয়ে পড়লে রাত দুইটা থেকে চারটার মধ্যে ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয় সে। মধ্য রাতে স্বামীর ঘুম ভাঙলে বৃষ্টিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় বলে তাদের কাছে দাবি করেছেন স্বামী। ঝুলন্ত অবস্থা থেকে তাকে নিচে নামিয়ে পরে স্বজনদের খবর দেন। এই মৃত্যুর বিষয় স্বজনরা সন্দেহ পোষণ করেছে।
এদিকে, রামপুরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুল হক জিহান জানান, সকাল ১১টার দিকে রামপুরা তালতলা মেম্বারের গলির ২৮৮/বি নম্বর টিনসেড বাসা থেকে মোস্তাক আহমেদের লাশ উদ্ধার করা হয়। দিনমজুরের কাজ করতেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে ভুগছিলেন। এছাড়া মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। বাড়িতে তিনি এবং তার পাশের বাড়িতে তার মা ও বোন থাকেন। তিন বছর আগে বিয়ে করলেও তার অসুস্থতার কারণে তার বউ তাকে ছেড়ে চলে যায়। সোমবার দিবাগত রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। তিনি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার সিদ্দিক মোল্লার ছেলে।