রেলওয়ের ‘অব্যবস্থাপনার’ প্রতিবাদ জানিয়ে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে অবস্থান নেয়া মহিউদ্দিন রনি দশম দিনেও তার কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এই শিক্ষার্থী শনিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে দেশ টিভিকে বলেন, ‘যতদিন সমাধান না পাবো, ততদিন স্টেশনে থেকে এভাবে প্রতিবাদ জানাতে থাকবো ।’
রেলওয়ের ‘অব্যবস্থাপনার’ পরিবর্তনে ছয় দফা দাবি জানিয়ে গত ৭ জুলাই থেকে টিকেট কাউন্টারের সামনে দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডসহ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন রনি।
রনি শুরুতে একা আন্দোলন করলেও আরো কয়েক জন শিক্ষার্থী সম্প্রতি তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।
আন্দোলনের কারণ জানতে চাইলে রনি জানান, গত ১৩ জুন বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে ঢাকা-রাজশাহী রুটের ট্রেনের আসন নিবন্ধনের চেষ্টা করেন তিনি। কিন্ত মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা সংস্থা বিকাশ থেকে ভেরিফিকেশন কোড দিয়ে তার পিন কোড ছাড়াই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়। কিন্তু ট্রেনের কোনো আসন পাননি, এমনকি কেন টাকা নেওয়া হল, তার কোনো রশিদও দেয়া হয়নি।

মহিউদ্দিন রনি। ছবি: দেশ টিভি
পরে কমলাপুর রেল স্টেশনে সার্ভার কক্ষে অভিযোগ জানালে সেখান থেকে ‘সিস্টেম ফল’ করার কথা বলা হয়। সেই সঙ্গে ১৫ দিনের মধ্যে টাকা না পেলে আবার যেতে বলা হয়৷
তবে তার সামনেই প্রায় দ্বিগুণ দামে টিকেট বিক্রির অভিযোগ করে রনি বলেন, ‘কিন্তু ওই মুহূর্তে কক্ষে থাকা কম্পিউটার অপারেটর ৬৮০ টাকার সিট ১২০০ টাকায় বিক্রি করেন।’
রনি জানান, গত ১৪ ও ১৫ জুন দুই বার তিনি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে নিজের অভিযোগ জানান। কিন্তু সেখান থেকে কোনো জবাব বা শুনানির জন্য ডাক আসেনি।
পরে তিনি কমলাপুর রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে অবস্থান ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করেন। কিন্তু তৃতীয় দিন ৯ জুলাই পুলিশ সদস্যরা তাকে বাধা দেন।
তখন থেকে তিনি গণস্বাক্ষর বন্ধ রেখে শুধু অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

মহিউদ্দিন রনি। ছবি দেশ টিভি
রনির ছয় দফা:
১. টিকেট ক্রয়ের ক্ষেত্রে সহজ ডট কম কর্তৃক যাত্রী হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। হয়রানির ঘটনায় তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২. যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে টিকেট কালোবাজারি প্রতিরোধ করতে হবে।
৩. অনলাইনে কোটায় টিকেট ব্লক করা বা বুক করা বন্ধ করতে হবে। সেই সাথে অনলাইন-অফলাইনে টিকেট ক্রয়ের ক্ষেত্রে সর্বসাধারণের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. যাত্রী চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ রেলের অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
৫. ট্রেনের টিকেট পরীক্ষক ও তত্ত্বাবধায়কসহ অন্যান্য দায়িত্বশীলদের কর্মকাণ্ড সার্বক্ষণিক মনিটর, শক্তিশালী তথ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে রেল সেবার মান বৃদ্ধি করতে হবে।
৬. ট্রেনে ন্যায্য দামে খাবার বিক্রি, বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।