রাজধানীতে বুধবার (১৭ আগস্ট) দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীতে তীব্র যানজট দেখা গেছে। এ কারণে রাজধানীবাসীকে প্রচণ্ড দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। প্রায় সব সড়কে স্থবির হয়ে ছিল যানবাহনগুলো।
রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা দিবস উপলক্ষে বিকেলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
যানজটের কারণে মতিঝিল ও সচিবালয় থেকে অফিস শেষে অনেকে হেঁটে বাড়ির পথে রওনা দেন। কেউ কেউ বাসে চাপলেও দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে থাকার পর গাড়ি থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করেন।

যানজট
কারওয়ান বাজারে নাজমুল হাসান নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে কারওয়ান বাজারে আসতে তাঁর দেড় ঘণ্টা লেগেছে। নিরুপায় হয়ে তাঁকে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে রাস্তার উল্টো দিকে দিয়ে বাইক চালিয়ে আসতে হয়েছে।
সোহানুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, তিনি মতিঝিলে গিয়েছিলেন ব্যবসায়িক কাজে। রাস্তায় যানজটের ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখে তিনি নিজের গাড়িটি স্থানীয় একটি অফিসের গ্যারেজে রেখে হেঁটে ও রিকশায় চেপে নিজের নিকেতনের বাসায় যান। সন্ধ্যার পর থেকে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ সমাবেশকে ঘিরে দুপুর থেকেই শাহবাগ মোড় থেকে মৎস্য ভবন মোড়ে যাওয়া ও আসার দুটি সড়কই বন্ধ রাখা হয়। এতে যানবাহনগুলোকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হয়। আর এ কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানজট দেখা দেয়।

সমাবেশের সময় শাহবাগ-মৎস্য ভবন এলাকায় যান চলাচল বন্ধ ছিলো
সমাবেশের পূর্ব নির্ধারিত সময় ছিল বিকাল ৪টায়। তবে দুপুরের আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। মিছিলে মিছিলে প্রকম্পিত হতে শুরু করে শাহবাগ থেকে প্রেস ক্লাব, মৎস্য ভবন থেকে কাকরাইল। এতে অফিসফেরত মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এই পথে সাধারণ মানুষকে হেঁটে চলাচল করতে হয়েছে।
সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মিছিল আকারে নেতাকর্মীদের ভিড়ে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। মৎস্য ভবন থেকে শাহাবাগ পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে গুলিস্তান থেকে ধানমণ্ডিগামী যানগুলোকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে ঘুরে যেতে হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মিছিল ও যানবহনের কারণে সেগুনবাগিচা, মৎস্য ভবন, কাকরাইল ও শিল্পকলা এলাকার অলি-গলি পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়।
মালিবাগ থেকে রিকশায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি যাবেন আলমগীর হোসেন। তিনিও জানান, তীব্র যানজটে পড়তে হয়েছে তাকে। যার কারণে তার এক ঘণ্টা লেগেছে। যানজটে অনেক ভোগান্তি হয়েছে।
মালিবাগ, মগবাজার ও বাড্ডা এলাকায় গাড়ি না থাকায় সড়কের পাশে শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। যে কয়েকটি গাড়ি চলেছে, সেগুলোতেও ছিল উপচেপড়া ভিড়।

দুপুর থেকেই মিছিল নিয়ে আসতে থাকেন দলটির নেতাকর্মীরা
সোয়া ৫টায় সমাবেশ শেষ হলে শুরু হয় বিক্ষোভ মিছিল। মিছিলটি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে মৎস্য ভবন-কদম ফোয়ারা-প্রেস ক্লাব ও জিরোপয়েন্ট হয়ে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় পল্টন এলাকায় ভোগান্তিতে পড়েন অফিসফেরত সাধারণ মানুষ। অনেককে যানজটে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
ট্রাফিক বিভাগ বলছে, সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে দুপুর থেকেই রাজধানীর যানচলাচল স্থবির হয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময়ে দেশব্যাপী নিষিদ্ধ সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সিরিজ বোমা হামলা হয়। এর পর থেকে দিনটিকে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে আওয়ামী লীগ।