রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ছয় জনকে খুনের মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। এছাড়া এক আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে। রোববার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সহিদুল করিম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দিয়েছে।
আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) শেষে এ রায় দেয়া হয়। আসামি কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল, মাসুম মাতব্বর ওরফে মাসুম ও জাকির হোসেন ওরফে বাহারের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছে আদালত। খালাস পেয়েছেন আজিম।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালের ১৩ অক্টোবর পল্লবী আবাসিক এলাকার ২৪/২০ নম্বর বাড়িতে গৃহকর্মী খাদিজা (১৫), আন্না (১৪), মনির (১২), প্রাক্তন ভৃত্য রিজিয়া (৪২), তার ছেলে তোফেল (১৭) ও দারোয়ান মিলন বকশিকে জবাই করে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় বাড়ির মালিক সিরাজুল হক পরদিন ১৪ অক্টোবর পল্লবী থানায় মামলা করেন। ২০০৭ সালে ওই মামলায় চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। ডাকাতি করতে আসা আসামিদের চিনে ফেলায় ওই ছয়জনকে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়।
এ মামলায় ২০০৮ সালের ২৬ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল, মাসুম মাতব্বর ওরফে মাসুম, জাকির হোসেন ওরফে বাহার ও আজিমের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করে। ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে আদালত এ রায় দিয়েছে।
আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম শফিকুল ইসলাম ও সাখাওয়াত হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ বলেন, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চারজনের মধ্যে তিনজনের দণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। আর একজনকে খালাস দিয়েছে আদালত। এর বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এম শফিকুল ইসলাম বলেন, আজিম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে খালাস দিয়েছে।