পিলখানা সদরদপ্তরে সাবেক বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যায় দায়ের করা মামলায় খালাসপ্রাপ্ত ৬৯ জনের শাস্তি চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
গত ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত ওই মামলায় ২৭৭ জনকে খালাস দিলেও বাকিদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ না থাকায় আপিল করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ হোসেন।
তিনি বলেন, ওই রায়ের পর খালাসপ্রাপ্ত সব আসামির বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ ৬৯জনের বিরুদ্ধে পযার্প্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ থাকার পরও বিচারিক আদালতে তারা খালাস পান। তাই তাদের যথাযথ শাস্তি চেয়ে আপিল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এখন আপিল গ্রহণযোগ্যতার জন্য কোনো একটি আদালতে শুনানির আবেদন করা হবে। বিগত ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় বিদ্রোহের প্রায় দুই বছর পর এ বাহিনীর নাম বদলে বিডিআরের পরিবর্তে বিজিবি রাখা হয়। ওই বিদ্রোহে তখনকার মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ বিডিআরে কর্মরত অর্ধশতাধিক সেনা কর্মকর্তা নিহত হন।
বিডিআর বিদ্রোহের সময় পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের মামলায় ১৫২ জনকে জওয়ানকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। ৮৪৬ জন জীবিত আসামির মধ্যে ২৭৭ জন বেকসুর খালাস পান। তাদের মধ্যে ১৬১ জনকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। বাকিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে।
বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়া বিডিআরের উপ সহকারী পরিচালক তৌহিদুল আলমসহ (৫৫) বাহিনীর ১৫২ জওয়ান ও নন কমিশন্ড কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয় রায়ে। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু ও আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড নেতা তোরাব আলীও রয়েছেন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে। তাদের দুজনকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো পাঁচ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। ওই দণ্ডের পর মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়াদের মামলা অনুমোদনের জন্য হাই কোর্টে এসেছে। পাশাপাশি কারাগারে থাকা ব্যক্তিরাও আপিল করেছে।