নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির অগ্রগতি প্রতিবেদনসহ সাতটি প্রতিবেদনের বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে শুনানির সময় নির্ধারণ করেছে হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থিত হয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এস এম নাজমুল প্রতিবেদনের বিষয়টি আদালতের নজরে আনে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে জানায়, অগ্রগতি প্রতিবেদনগুলো তৈরি হয়েছে এবং দুপুরে এসব প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
উল্লেখ, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যা করা। এ ঘটনার তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জনের এবং পরদিন আরো একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ৫ মে বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় প্রকাশিত প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত রুল জারির পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়। আদেশে সাতজনকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় প্রশাসন, র্যা বসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কোনো গাফিলতি আছে কি-না, তাসহ পুরো ঘটনা তদন্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়।
এ ঘটনায় র্যা ব-১১ এর সম্পৃক্ততা আছে কি-না, এ বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত করতে র্যা বের মহাপরিচালককেও নির্দেশ দেয়া হয়।
এছাড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলা গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পাশাপাশি সিআইডিকে (অপরাধ তদন্ত বিভাগ) তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্টদের এ আদেশ বাস্তবায়ন বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে ৭ দিনের সময় দেন এবং ১৫ মে এ বিষয়ে শুনানির দিন ঠিক করে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সংশ্লিষ্ট সবপক্ষ হত্যকাণ্ডের ঘটনা অনুসন্ধান বিষয়ে হাইকোর্টে তাদের কার্যক্রম ও ভূমিকা উল্লেখ করে পৃথক প্রতিবেদন দাখিল করে সময় আবেদন জানায়।