মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পক্ষে রোববার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে যুক্তিতর্ক শুরু করেন প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান। আসামিপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম।
মোবারকের বিরুদ্ধে আনীত ৪ ধরনের অপরাধে ৫টি অভিযোগে দেয়া সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যুক্তি শুরু করেছে প্রসিকিউশন।
এর আগে গত ১৭ এপ্রিল মোবারকের মামলায় সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। মোবারক হোসেনের মামলায় ৩ জন সাফাই সাক্ষী নির্ধারণ করে গত বছর ২৬ নভেম্বর আদেশ দেয়া হয়। ২ জন সাফাই সাক্ষী হাজির করে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে গত ৩ এপ্রিল পর্যন্ত মামলার বিভিন্ন ধার্য তারিখে মোবারক হোসেন নিজে ও তার বড় ছেলে মোহাম্মদ আসাদ উদ্দিন সাফাই সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেয়। পরে তাদেরকে জেরা করে প্রসিকিউশন।
এর আগে গত বছর ২০মে মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে ১২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছে। গত ২৫ নভেম্বর প্রসিকিউশন পক্ষে সাক্ষ্য-গ্রহণ ও সাক্ষীকে আসামিপক্ষের জেরা শেষ হয়। গত বছর ১২ মার্চ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। ১৬ মে সূচনা বক্তব্যের মধ্যেদিয়ে মামলার বিচার কাজ শুরু হয়।
মোবারকের বিরুদ্ধে ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, অপহরণ, আটক ও নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী ৪ ধরনের অপরাধে ৫টি অভিযোগে গতবছর ২৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
মোবারক হোসেনের পরিচয় সম্পর্কে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার আখাউড়া থানার নয়াদিল গ্রামের সাদত আলীর ছেলে। তার রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মোবারক হোসেন স্বাধীনতার পর জামাতের রুকন ছিলেন। পরে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিলেও পরে বহিস্কৃত হন।