দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আলাদা তিনটি মামলায় প্রবাসীকল্যাণ সচিব খন্দকার শওকত হোসেনের আগাম জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের বেঞ্চ পৃথক তিনটি আবেদনের শুনানি গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন।
তবে শওকত হোসেন এ তিন মামলায় আগাম জামিন না পেলেও হাইকোর্টের অন্য কোনো বেঞ্চে ফের আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
আদালতে সচিবের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ গোলাম হাফিজ।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শওকত হোসেনের পক্ষে করা তিনটি আগাম জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণে হাইকোর্ট অপরাগতা প্রকাশ করেছে। পরে আবেদনগুলো ফেরত নেয়া হয়েছে।
সম্প্রতি শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে তার মা, স্ত্রী ও নিজ নামে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্লট বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগে তিনটি মামলা করা হয়। দুদকের পক্ষে যতন কুমার রায় বাদী হয়ে রাজধানীর মতিঝিল থানায় এ মামলাগুলো করেন। এরপর গত রোববার পৃথক তিন মামলায় শওকত হোসেন হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন। মঙ্গলবার ওই আবেদনগুলো কজলিস্টে (হাইকোর্ট দৈননিন্দন কার্যতালিকা) আনা হলে দুপুরে শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এতে আদালত অপরাগতা প্রকাশ করে।
শওকত হোসেনর বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শওকত হোসেন ২০০১ সালে সম্প্রসারিত উত্তরা প্রকল্পে নিজের নামে তিন কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ নেন। পরে ওই প্লটকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি অনিয়মের মাধ্যমে তিন কাঠা জমিকে পাঁচ কাঠায় উন্নীত করেন। সেখান থেকে দুই কাঠা জমি তিনি বিক্রি করেন। কিন্তু পরে ওই জমি ডেভেলপারকে দেয়ার সময় পুরো পাঁচ কাঠারই আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) দেন তিনি।
মামলার এজাহারে আরো বলা হয়, একইভাবে পূর্বাচল প্রকল্পে ২০০৪ সালে শওকত হোসেন তার স্ত্রী আয়েশা খানমের নামে সাড়ে সাত কাঠার প্লট বরাদ্দ নিয়ে প্রথমে ১০ কাঠা এবং পরে ওই জমি সাড়ে ১২ কাঠায় উন্নীত করেন। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) উত্তরা আবাসিক প্রকল্পে অভিনব কায়দায় জালিয়াতি করে তিনি তার মায়ের নামেও নিয়েছেন তিন কাঠার প্লট। একই পন্থায় ওই তিন কাঠার প্লটকে আয়তনে বাড়িয়ে পাঁচ কাঠায় উন্নীত করেন তিনি।