ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় আসামি সাদমান ইয়াসির মাহমুদের জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন চেম্বার বিচারপতি। একইসঙ্গে তাকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী রাষ্ট্রপক্ষের স্থগিতাদেশে চেয়ে করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে ১৬ জুন বিষয়টি ওপর শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খোরশেদুল আলম। আর সাদমানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।
সাদমানের করা এক জামিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১ জুন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ তার ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। ৫ জুন তিনি জামিনে মুক্তি পান।
জামিন মঞ্জুরের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ রোববার আবেদন করে।
গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পল্লবীর পলাশনগরের নিজ বাড়ির কাছে ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারকে (৩২) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাত ছাত্রসহ আটজনের বিরুদ্ধে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে এ বছরের ২৮ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এর আগে গত বছর ১৪ আগস্ট রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে সাদমান ইয়াসির মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আসামিরা হলেন—আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের প্রধান শায়খুল হাদীস মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেদোয়ানুল আজাদ ওরফে রানা, মো. ফয়সাল বিন নাঈম ওরফে দীপ, মাকসুদুল হাসান ওরফে অনিক, মো. এহসান রেজা ওরফে রুম্মান, নাঈম সিকদার ওরফে ইরাদ, নাফিস ইমতিয়াজ ও সাদমান ইয়াছির মাহমুদ।
অভিযোগপত্রে রাহমানীকে ‘হত্যাকাণ্ডে অনুপ্রেরণাকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হলেন নর্থ সাউথের শিক্ষার্থী রেদোয়ানুল আজাদ ওরফে রানা। রানা পলাতক। বাকি সাতজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।