ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম খান মিল্কী হত্যা মামলা পুনঃতদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার বাদীপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর হাকিম তারেক মঈনুল ইসলাম ভূঁইয়া।
এর আগে মূল আসামিদের বাদ দিয়ে চার্জশিট দেয়ায় অভিযোগে নিহতের ছোট ভাই মেজর রাশিদুল হক খান মিল্কী গত সোমবার আইনজীবীর মাধ্যমে নারাজি আবেদন দাখিল করেন।
মামলার মূল নথি মহানগর দায়রা জজ আদালতে থাকায় মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত শুনানির জন্য দিন ধার্য করে একই আদালত। বাদীর নারাজির আবেদন থেকে জানা যায়, একটি প্রভাবশালী মহলের চক্রান্তে এ মামলায় ইচ্ছাকৃতভাবে মূল অপরাধীদের আড়াল করতে র্যা ব মনগড়া এক অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত জাহিদুল ইসলাম টিপু, ওয়াহিদুল আলম আরিফ, মো. আহকামুল্লাহ, আমিনুল
ইশান বাবু, মাহবুবুল হক হিরক, এনামুল হক ও মাসুদ উদ্দিন আহমেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে ফের তদন্ত করা হোক।
বাদী আদালতে নারাজির আবেদনটি আমলে নিয়ে মামলার তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে হস্তান্তরের আবেদন জানায়।
গত ১৫ এপ্রিল এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যা ব-১-এর পুলিশ সুপার কাজীমুর রশিদ ১১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। আর ৯জনকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করেন। ২৬ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
উল্লেখ, ২০১৩ সালের ২৯ জুলাই রাতে মাত্র ১৪ সেকেন্ডের মধ্যে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। হত্যার এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন গুলশান-১-এর শপার্স ওয়ার্ল্ড মার্কেটের ক্রেতা ও পথচারীরা। মিশন শেষ করে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চার যুবক। মধ্যরাতের শ্বাসরুদ্ধকর এ দৃশ্য ধরা পড়ে শপার্স ওয়ার্ল্ডের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায়। পরে তা জব্দ করা হয়।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩০ জুলাই রাত ১২টার দিকে গুলশান থানায় নিহত মিল্কীর ছোট ভাই মেজর রাশিদুল হক খান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে যুবলীগ নেতা তারেক, জাহিদুল ইসলাম টিপু, চঞ্চল, আরিফসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।