নারাণগঞ্জে সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি কলকাতায় গ্রেপ্তার হওয়া নূর হোসেনসহ ২ সঙ্গীকে ৮ দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার কলকাতার বারাসত আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
আদালত তাকে ১৪ দিন জেলহেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আপাতত তিনি দমদম সেন্ট্রাল জেলে থাকবে। আদালতে নূর হোসেনের পক্ষ থেকে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকেও তার রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়নি।
সকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর বাগুইআটি থানা পুলিশ দুপুর দেড়টার দিকে নূর হোসেনরসহ তার সহযোগীদের আদালতে নেয়া হয়।
এ সময় কলকাতার বাগুইহাটি থানার কাছে দেশবন্ধু নগর সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যপরীক্ষা শেষে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করে নূর হোসেন বলেন, আমি চক্রান্তের শিকার। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।
চক্রান্তের পেছনে কারা রয়েছে—সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে নূর হোসেন বলেন, আপনারা সেটা খুঁজে বের করুন।
র্যা বকে ছয় কোটি টাকা দিয়েছেন কি না—জানতে চাইলে নূর হোসেন বলেন, আমি জানি না।
এ সময় নূর হোসেন বলেন, আমি এ খুনের ঘটনায় যুক্ত নয়। র্যা বকে কোনো টাকা-পয়সা দিইনি। আমাকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হচ্ছে।
নূর হোসেনের সঙ্গীদের একজন সুমন খান বলেন, আমি পাসপোর্ট ভিসা নিয়ে এসেছি তবু আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।
গত ১৪ জুন রাতে কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে বাগুইহাটি থানার কৈখালি এলাকার ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসন থেকে দুই সঙ্গীসহ গ্রেপ্তার হন নূর হোসেন। বাগুইহাটি থানার সহযোগিতায় বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াডের (এটিএস) সদস্যরা তাদের গ্রেপ্তার করেন।
পরদিন গ্রেপ্তার হওয়া তিন জনকে বারাসাতের আদালতে হাজির করা হলে নূর হোসেন ও তাঁর দুই সঙ্গীকে জিজ্ঞাসাবাদে আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে দেশটির আদালত।
৮ জুন ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসনের পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাট মাসিক ২০ হাজার টাকায় দুই মাসের জন্য ভাড়া নেন নূর হোসেন।
আদালতের নির্দেশ এটিএস সদস্যরা নূর হোসেনকে উত্তর বিধাননগর থানায় নিয়ে জেরা করেন। তিনি কীভাবে, কার সাহায্যে, কোন সীমান্তপথে, কোন দালালের হাত ধরে কলকাতায় এসেছেন—তা জানার চেষ্টা করেছে এটিএস। এ ছাড়া ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসনে ওঠার ক্ষেত্রে নূর হোসেন কাদের সহযোগিতা নিয়েছেন, এ কাজে কলকাতার কোন কোন ব্যক্তি জড়িত—জেরায় তাও জেনেছেন এটিএসের সদস্যরা।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারসহ সাতজনকে গুম ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন। তাকে ধরার জন্য ইন্টারপোলে রেড ওয়ারেন্ট জারি করে। গত ২৭ এপ্রিল অপহরণ ও গুমের ঘটনার পর নূর হোসেন ভারতে পালিয়ে যান।
কাউন্সিলর নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম গত ৪ মে অভিযোগ করেন, ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে সাতজনকে খুন করেছেন র্যা বের তিন কর্মকর্তা। নূর হোসেন তাদের এ টাকা সরবরাহ করেন।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ থেকে ২৭ এপ্রিল একসঙ্গে সাত ব্যক্তি অপহৃত হন। তারা হলেন: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ইব্রাহিম।
আর ৩০ এপ্রিল দুপুরে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও পরদিন একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।