ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের সাংসদ ও অভিনেতা তাপস পালের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে করা মামলার শুনানি চলছে। আগামী সপ্তাহে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেছে আদালত।
মঙ্গলবার ও বুধবার মামলার শুনানি হয় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের আদালতে।
শুনানিতে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত বলেন, যে ভাষায় একজন সাংসদ কথা বলেছেন, তাতে তিনি লজ্জিত।
বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, এ ব্যাপারে কি প্রশাসনের কিছু করার নেই? প্রশাসন যেভাবে এ ঘটনায় নির্লিপ্ত রয়েছে, তাতে তিনি বিস্ময়ও প্রকাশ করেন।
তিনি সরকারি আইনজীবীর কাছে জানতে চান, ‘রাজ্য সরকার তাপস পালের মন্তব্যকে সমর্থন করে কি না?’ এই বিচারপতি নির্দিষ্টভাবে রাজ্য সরকারের মতামতও জানতে চান।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়ার চৌমাহা গ্রামে এক দলীয় সমাবেশে তাপস পাল বলেন, ‘আমি চন্দননগরের ছেলে। অনেক রংবাজি করেছি। আমি প্রচুর মাস্তানি করেছি। আমি পকেটে মাল নিয়ে ঘুরি। আমি নিজে রিভলবার দিয়ে গুলি করে চলে যাব। সিপিএমকে গুলি করে মারব। আমার মা, বোন, বাবা, বাচ্চা কারোর গায়ে যদি হাত পড়ে, আমি ছেড়ে কথা বলব না।
বাড়ি বাড়ি ঢুকে ছেলে পাঠিয়ে সিপিএমের মেয়েদের রেপ করে দেব। তৃণমূলের কারও গায়ে যদি কোনো সিপিএম হাত দেয়, তবে তাদের গোষ্ঠী শেষ করে দেব। বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেব।’ এই একই ধরনের বক্তব্য তিনি একই দিন এই জেলার আরও তিনটি স্থানে দেন।
তাপস পালের কুরুচিকর ওই মন্তব্যের পর ২ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থে মামলা করেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী শমিত সান্যাল। ওই মামলার প্রথম শুনানি হয় গতকাল।