জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার করা আবেদন খারিজ করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলসহ (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) চার আবেদনের শুনানির তারিখ ধার্য করেছে আপিল বিভাগ। এর মধ্যে ২টি আবেদনের ওপর ২১ জুলাই এবং লিভ টু আপিলের ওপর ২৪ জুলাই তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
রোববার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ শুনানির এ তারিখ ধার্য করেন।
ওই দুই মামলার কার্যক্রম স্থগিত ও বিচারক নিয়োগ-প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে খালেদা জিয়ার করা দুইটি রিট গত ১৯ জুন হাইকোর্টে খারিজ হয়। এ আদেশ ও মামলা দুটির কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে ৭ জুলাই দুটি আবেদন (সিএমপি) করেন খালেদা জিয়া।
পরদিন আবেদন দুটি চেম্বার বিচারপতির আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আবেদন দুটি ১৩ জুলাই নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান আদালত। রোববার আদালতে বিষয়টি উপস্থাপিত হলে খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী সময়ের আবেদন জানান। পরে আদালত ২১ জুলাই শুনানির তারিখ ধার্য করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ দুটি মামলায় খালেদা জিয়ার করা লিভ টু আপিলের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। আদালত তা শুনানির জন্য ২৪ জুলাই তারিখ ধার্য করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মার্চ ওই দুই মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগ গঠনের ক্ষেত্রে খালেদা জিয়াকে দোষী কী নির্দোষ জিজ্ঞাসা করা হয়নি—এমন দাবি করে ওই আদেশ বাতিল চেয়ে ১৩ এপ্রিল হাইকোর্টে (রিভিশন) আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়া।
রিভিশন আবেদন খারিজ হওয়ার পর মামলা ২টির কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে ও বিচারক নিয়োগ-প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১২ মে খালেদা জিয়া দুটি রিট করেন। প্রাথমিক শুনানির পর ২৫ মে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বিভক্ত আদেশ দেন। এক বিচারপতি মামলার কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি রুল দেন। অপর বিচারপতি আবেদন দুটি খারিজ করে দেন।
এরপর প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চে পাঠান। দুই দিন শুনানি শেষে ১৯ জুন হাইকোর্টের একক বেঞ্চ রিট আবেদন দুটি খারিজ করে আদেশ দেন।
মাঝে ৭ মে আইন মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মামলা দুটির বিচারকাজ পরিচালিত হবে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৩-এর অস্থায়ী এজলাসে।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে অনিয়মের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর মামলাটি করে দুদক।
২০০৯ সালের ৫ আগস্ট দুদক খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।