মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর হত্যা মামলার তদন্তের জন্য আবারো তিন মাস সময় দিয়েছে আদালত। আগামী ৯ অক্টোবরপুলিশের অপরাধ তদন্ত -সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক খন্দকার হাসান মো. ফিরোজ নতুন দিন ঠিক করে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ নিয়ে তৃতীয় দফা প্রতিবেদন দাখিলের সময় পেছানো হয়েছে।
এ মামলার প্রধান আসামি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এইচম এম এরশাদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
এর আগে গত ২২ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তারিখ দেয়া হয়, ওইদিন আসামির উপস্থিতিতে সময় বাড়িয়ে ১৫ জুলাই তারিখ দেয়া হয় সিআইডিকে।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদসহ মামলাটিতে অবসরপ্রাপ্ত চার সেনা কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন- মেজর কাজী এমদাদুল হক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তফা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, মেজর জেনারেল আব্দুল লতিফ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল শামসুর রহমান শামসের।
তাদের মধ্যে লতিফ ও শামসেরের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
উল্লেখ, গত ১০ ফেব্রুয়ারি এই মামলার রায়ের দিন ঠিক হয়েছিল। কিন্তু এই আদালতে তখনকার বিচারক হোসনে আরা আক্তার বদলি হওয়ায় নতুন বিচারক খন্দকার হাসান ফিরোজ ফের যুক্তিতর্ক শোনার সিদ্ধান্ত নেন। নতুন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় অধিকতর তদন্তের আবেদন জানান ওই আদালতের পিপি আসাদুজ্জামান খান রচি।
চট্টগ্রামে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৮১ সালের ১ জুন মেজর জেনারেল মঞ্জুরকে পুলিশ হেফাজত থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখানেই তাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়।
ওই সময় সেনা প্রধান ছিলেন এরশাদ, যিনি পরে সামরিক আইন প্রশাসক হন। এরশাদ পরে রাষ্ট্রপতির আসনে বসেন। অবশ্য নয় বছর শাসন করার পর গণআন্দোলনের মুখে বিদায় হন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পর ১৯৯৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জেনারেল মঞ্জুরের বড় ভাই ব্যারিস্টার আবুল মনসুর আহমেদ বাদী হয়ে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই বছরের ১৫ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেন সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দ।
এর আগে ১ মার্চ আসামি এমদাদুল হক, ১২ মার্চ আবদুল লতিফ ও শামসুর রহমান এবং ১৮ জুন কামালকে গ্রেপ্তার করা হয়।বর্তমানে এরশাদসহ আসামিরা সবাই জামিনে রয়েছেন।