র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাবের নয় সদস্যসহ এগার জনের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে শাহনূর আলম নামের এক ব্যক্তিকে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে জেলা দায়রা জজ আদালতের দেয়া আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না— তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার বিচারপতি শওকত হোসেন ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আবেদনের (রিভিশন আবেদন) শুনানি নিয়ে এ আদেশ দিয়েছে।
এর আগে জেলা দায়রা জজ আদালত জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের (নবীনগর) দেওয়া আদেশ সংশোধন করেন।
গত রোববার নিহত শাহনূরের ভাই মেহেদী হাসান রিভিশন আবেদনটি করেন।
আদালতে রিভিশন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রফিকুল ইসলাম মিয়া ও তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. রফিকুল হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোশাররফ হোসেন।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া দায়রা জজ আদালতের ওই আদেশটি কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত: গত ২৯ এপ্রিল র্যাব পরিচয়ে শাহনূর আলমকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে ভৈরব র্যাব ক্যাম্প-১৪-এ নিয়ে নির্যাতন করা হয়। ৩০ এপ্রিল নবীনগর থানায় পাঠানো হয়। মো. আবু তাহের নামের এক ব্যক্তির করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরে শাহনূরের চিকিত্সার জন্য ৪ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ। ৬ মে শাহনূর মারা যান। ওই ঘটনায় তার ভাই মেহেদী হাসান ১ জুন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে (নবীনগর) অভিযোগ দায়ের করেন। ৪ জুন আদালত অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গণ্য করার জন্য এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দিয়ে তদন্ত করার আদেশ দেয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে র্যাব-১৪-এর ভৈরব ক্যাম্পের এক এসআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া দায়রা আদালতে রিভিশন আবেদন করেন। ৬ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দায়রা জজ আদালত আদেশ সংশোধন করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেন। এ আদেশ বাতিল চেয়ে গত রোববার আবেদন করেন শাহনূরের ভাই মেহেদী হাসান। শুনানি নিয়ে আজ আদালত এ আদেশ দেন।