ফেনী-২ আসনের সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারীর বিষয়ে ২টি আপিলের নথি তলব করেছে হাইকোর্ট। জামিনে মুক্তি-সংক্রান্ত (ফৌজদারি আপিল) ও দণ্ডাদেশ বহাল-সংক্রান্ত অপর আপিলের নথি পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে দাখিল করা কয়েদি রেজিস্টারের মূল সাজার রেয়াদ-সংক্রান্ত তথ্যের বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে ব্যাখ্যা জানাতে বলা হয়েছে।
আইজি প্রিজন ও চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ জেল সুপারকে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে হলফনামা আকারে তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে হাইকোর্টের অবকাশ শেষে এক সপ্তাহ পর পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য করেছে আদালত। এ হিসাবে ৭ সেপ্টেম্বর বিষয়টি কার্যতালিকায় আসার কথা।
১০ মে ‘সাজা কম খেটেই বেরিয়ে যান সাংসদ—অস্ত্র মামলায় নিজাম উদ্দিন হাজারীর ১০ বছর কারাদণ্ড’ শিরোনামে প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়।
এতে বলা হয়, দুই বছর ১০ মাস কম সাজা খেটেই কারাগার থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন ফেনী-২ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী। এ প্রতিবেদন যুক্ত করে ফেনী যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া রিট করেন। শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারির পাশাপাশি আদেশ দেন।
এর ধারাবাহিকতায় কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষে বুধবার প্রতিবেদন দাখিল করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আলামিন সরকার। প্রথম আলোর প্রতিবেদনের পক্ষে জবাব দাখিল করেন আইনজীবী আফতাব উদ্দিন সিদ্দিকী। নিজাম উদ্দিন হাজারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নুরুল ইসলাম।
শুনানির শুরুতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আলামিন সরকার কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, ফৌজদারি আপিলে (নাম্বার ১৪০৯/২০০৬) ২০০৬ সালের ১ জুন নিজাম উদ্দিন হাজারী জামিনে মুক্তি পান। তিনি সাজা ভোগরত অবস্থায় আদালতের আদেশ অনুসারে জামিনে মুক্তি পান।
এ সময় আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০০৪ সালে একটি আপিল খারিজ হওয়ার পর ২০০৬ সালে কী আরেকটি আপিল করার সুযোগ আছে?
সাংসদ নিজামের আইনজীবী নুরুল ইসলাম বলেন, একটিতে যদি জামিন হয় অন্যটি যদি খারিজ হয়; কোনটি সঠিক? নথি তলব করা যেতে পারে।
রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ২০০৪ সালে নিজাম উদ্দিন হাজারীর আপিল খারিজ হয় এবং দণ্ড বহাল থাকে। তিনি জামিন নিয়ে থাকলে জামিননামা থাকবে, তা খুঁজে দেখা যেতে পারে।
প্রথম আলোর পক্ষে আইনজীবী আফতাব উদ্দিন সিদ্দিকী কয়েদির রেজিস্টারের তথ্যসহ প্রতিবেদনের সপক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
রিটের শুনানি নিয়ে নিজাম উদ্দিন হাজারী কোন কর্তৃত্ব বলে ফেনী-২ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে আছেন—তা জানতে চেয়ে ৮ জুন রুল দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এ আসনটি কেন শূণ্য ঘোষণা করা হবে না—তাও জানতে চাওয়া হয়। (সূত্র : প্রথম আলো)