উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রায় দেড় শতাধিক বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না। কখনো কখনো নিম্ন আদালতে মামলার রায়ের দিনও অভিযুক্তদের উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসার ঘটনাও রয়েছে।
দুদকের আইনজীবীরা বলছেন, এতে করে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আর দুদকের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, উচ্চ আদালতে দুর্নীতি মামলার নিষ্পত্তিতে পর্যাপ্ত বেঞ্চ না থাকায় মামলা জট তৈরি হয়েছে।
দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের করা কয়েক শতাধিক মামলা এখন বিচারাধীন। তবে এ বিচার প্রক্রিয়া স্বাভাবিক গতিতে না এগুনোর অভিযোগ এসেছে দুদকের আইনজীবীদের কাছ থেকে। শুধু ২০০৭-০৮ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা প্রায় দেড় শতাধিক মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিতাদেশের কারণে মাঝপথে থেমে আছে।
দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘আমি জানি না কিভাবে আর কী করণে উচ্চতর আদালতে দীর্ঘ দিন ধরে দুর্নীতি দমন কমিশনের এতো উচ্চতর আদালদতে আইনজীবী থাকা স্বত্বেও একটি মৃত সাগরের মধ্যে নিম্মজ্জিত রয়েছে। এবং উচ্চতর আদালতে আমাদের হাইকোর্ট ডিভিশনে বা আপিল বিভাগে যেসব আইনজীবী রয়েছেন দুদকের পক্ষে যারা কাজ করছেন তাদের কাছে আবেদন থাকবে। তারা যেনো অবিলম্বে মামলার কার্যক্রম গ্রহণ করেন। এবং উচ্চতর আদালতে পরবর্তি মামলার বিচার করতে পারি, এ ব্যবস্থা করেন।’
এদিকে, কমিশন এ সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়ে বলছেন, একদিকে যেমন উচ্চ আদালতে দুদকের আইনজীবি সংকট রয়েছে। তেমনি মামলা নিষ্পত্তির জন্য উচ্চ আদালতে রয়েছে বেঞ্চের স্বল্পতাও।
দুদক কমিশনার মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘একটি মামলা করার পরে স্থগিত হয়ে যায় এবং বছরের পর বছর স্থগিতাদেশ ভেকেট করাতে যদি সক্ষম না হই সেক্ষেত্র দুদকের উদ্যোগ বেহেস্তে যায়। বাস্তব কিছু সংকট রয়েছে, যে সংকটগুলো মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বেঞ্চের অভাব রয়েছে। এন্টি করাপশনের একটি মাত্র বেঞ্চ যতটুকু সময় দিতে পারেন, সেটা আমাদের জন্য যথেষ্ঠ নয়।’
তবে এই কমিশনার মনে করেন, অচিরেই এই সমস্যা কাটিয়ে বিচারাধীন মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে স্বাভাবিক গতি তৈরি হবে।