ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক হত্যা মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা মাহাতাব উদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী মিনার ওরফে মিনার চৌধুরীর জামিন স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
রোববার জামিন বাতিল চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনে এ আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী
পাশপাশি তাকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পনেরও নির্দেশ দিয়েছে হয়েছে আদালত।
গত ১৫ জুলাই হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মিনার চৌধুরীকে অসুস্থতাজনিত কারণে ৬ মাসের জামিন দেন। ১৭ জুলাই ফেনী কারাগার থেকে মুক্তি পান বিএনপির এ নেতা। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে আবেদন করা হলে চেম্বার আদালতে ওই আবেদনের শুনানি হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তাকে সহায়তা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. একরামুল হক টুটুল। মিনারের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক সাংবাদিকদের বলেন, এজাহারে মিনার চৌধুরীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ১৬৪ ধারায় অন্য আসামিদের দেয়া জবানবন্দিতেও তার নাম এসেছে। এ ধরনের স্পর্শকাতর ও নৃশংস ঘটনার প্রধান আসামি জামিনে থাকলে তদন্ত কাজ বিঘ্নিত হতে পারে। তাই মিনার চৌধুরীর জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছিল।
তিনি জানান, চেম্বার আদালত আবেদন মঞ্জুর করে মিনার চৌধুরীকে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দিয়েছেন। যদি তিনি আত্মসমর্পন না করেন তাহলে দুই সপ্তাহ পর পুলিশ তাকে আটক করতে পারবে পুলিশ।
উল্লেখ, গত ২০ মে ফেনীর একাডেমি এলাকায় বিলাসী সিনেমা হলের সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে, কুপিয়ে ও গাড়িসহ পুড়িয়ে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি একরামুল হককে হত্যা করা হয়। ওইদিন নিহতের বড় ভাই রেজাউল হক জসিম ফেনী জেলা তাঁতী দলের আহবায়ক মিনার চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরো ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
গত মে মাসের ২৭ তারিখে ওই মামলায় ঢাকা থেকে মিনার চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ড শেষে ৪ জুন থেকে তিনি ফেনী জেলা কারাগারে আটক রাখা হয়। সেখান থেকে ১৭ জুলাই হাইকোর্টের জামিন আদেশ অনুসারে মুক্ত হন মিনার চৌধুরী।