জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪ এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুস আলী আকন্দ এ রিট করেন।
রিটে বলা হয়েছে, টেলিভিশন ও বেতারের জন্য প্রণীত জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা সংবিধানের ৭, ১১, ২৬, ২৭, ৩১, ৩৯ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে। এ নীতিমালা গণমাধ্যমের স্বাধীনতাহরণকারী ও মৌলিক অধিকার পরিপন্থী।
রিটে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে রুলও জারির আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি এই নীতিমালার কার্যক্রম পরিচালনার ওপর স্থগিতাদেশও চাওয়া হয়েছে। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও তথ্য সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ সাংবাদিকদের বলেন, বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আবু তাহের মো.সাইদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চের দৈনন্দিন কার্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে শিগগিরই শুনানি হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৭ আগস্ট টেলিভিশন ও বেতারের জন্য জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার গেজেট প্রকাশ করে তথ্য মন্ত্রণালয়। গেজেটে বলা হয়, অবিলম্বে এ সম্প্রচার নীতিমালা কার্যকর হবে।
এর আগে গত ৪ আগস্ট টেলিভিশন ও বেতারের জন্য এই নীতিমালার খসড়া অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এ নীতিমালার আওতায় সম্প্রচার আইন তৈরি এবং একটি স্বাধীন সম্প্রচার কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ নীতিমালাকে ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
তারা মনে করেন, ত্রুটিপূর্ণ নীতিমালার কারণে মতপ্রকাশের অধিকার খর্ব হতে পারে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সম্প্রচার নীতিমালার বিরোধীতা করে আসছে, তাদের অভিযোগ এ নীতিমালা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করবে।
বিকাশমান সম্প্রচার মাধ্যমকে গতিশীল করার জন্য এই নীতিমালা করা হয়েছে— গণমাধ্যমকে সংকুচিত করার জন্য নীতিমালা করা হয়নি বলে সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে‑ জনস্বার্থ, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আদর্শ ও চেতনা, সামাজিক মূল্যবোধ এবং রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্প্রচার নিশ্চিত করতে হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন ধরনের সামরিক বা সরকারি গোপন তথ্য ফাঁস করা যাবে না, সশস্ত্র বাহিনী অথবা দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত দায়িত্বশীল অন্য কোনো বাহিনীর প্রতি কটাক্ষ, বিদ্রূপ বা অবমাননা, অপরাধ নিবারণ ও নির্ণয়ে অথবা অপরাধীদের দণ্ডবিধানে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তাদের হাস্যস্পদ করে তাদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করে এমন দৃশ্য প্রদর্শন বা বক্তব্য দেওয়া যাবে না।
এ ছাড়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো বিদ্রোহ, নৈরাজ্য এবং হিংসাত্মক ঘটনা প্রদর্শন করা যাবে না।