বাগেরহাটে কোস্টগার্ড ও র্যাবের তিন সদস্যকে হত্যার দায়ে আদালত ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই পলাতক রয়েছেন। মঙ্গলবার বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এসএম সোলায়মান এ আদেশ দেন।
তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত দুই জনকে খালাস দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন : রফিকুল ইসলাম শেখ, বাবুল শেখ, কুদ্দুস শেখ ও তার ভাই ইদ্রিস শেখ এবং একই উপজেলার খালকুলিয়া গ্রামের আলকাস ফকির ও ইলিয়াস শেখ।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন : গাবগাছিয়া গ্রামের রিয়াজুল শেখ, আকরাম শেখ, আলম শেখ, বাদশা শেখ, জামাল শেখ, কামাল ওরফে সুমন শেখ এবং খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার হোগলাডাঙ্গা গ্রামের আসলাম শেখ।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ৭ জনকে আদালত একইসঙ্গে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।
আর খালাসপ্রাপ্ত দুজন হলেন : খুলনার হোগলাডাঙ্গা গ্রামের নান্না শেখ ও মিজানুর রহমান। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, বাগেরহাটের মংলা উপজেলার পশুর নদীতে ১৫-২০ জনের একদল ডাকাতকে ধরতে ২০০৬ সালের ১ ডিসেম্বর রাতে খুলনার র্যা ব-৬ ও মংলার কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের একটি দল যৌথভাবে অভিযানে যায়। এ সময় ডাকাত ডাকাতদের সঙ্গে তাদের গোলাগুলি হয়। এক পর্যায়ে অভিযানকারীরা তাদের স্পিডবোট থেকে ডাকাতদের নৌকায় ওঠে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেন।
এ সময় ডাকাতদের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয় এবং ডাকাতেরা র্যাব ও কোস্টগার্ড সদস্যদের নিয়ে নদীতে লাফিয়ে পড়ে পালিয়ে যায়। কোস্টগার্ড সদস্য এমএইচ কবির ও এমএ ইসলাম এবং র্যাব সদস্য কাঞ্চন নিখোঁজ হন। পরদিন পশুর নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে এ ঘটনায় র্যাব-৬ এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মহসীন আলী বাদী হয়ে মংলা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি তদন্তকালে বাদশা শেখ ও জামাল শেখ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তারা দুই জনেই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং ওই ঘটনায় জড়িত অন্যদের নাম প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ৮ মে মংলা থানার উপপরিদর্শক ও এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন শেখ আদালতে ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় অভিযুক্তদের ডাকাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার শুনানিকালে আদালত মোট ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।