বাংলাদেশে বিভিন্ন ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচারের অনুমতি ও ফি প্রদানের বিষয়ে প্রতিবেদন চেয়েছে হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের অবকাশকালীন বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছে।
আদালত এ বিষয়ে উভয়পক্ষকে দুটি হলফনামা দিতে বলেছে। সম্প্রচারের অনুমতি আছে কি-না, থাকলে কার কার আছে? বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা দিয়েছে কি-না; এ সব বিষয় হলফনামায় জানাতে বলা হয়েছে।
মৌখিক আদেশে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে রিটকারী ও কেবল টিভি নেটওয়ার্ককে এ প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত।
আদালতে রিটকারীর পক্ষে ছিলেন মো. এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া। কেবল টিভি নেটওয়ার্কের পক্ষে ছিলেন আব্দুল মতিন খসরু।
এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া সাংবাদিকদর বলেন, আদালতে নেটওয়ার্কের লোকজন বলেছে, তারা অনুমতি নিয়ে সম্প্রচার চালায়। ব্যাংকে এজন্য ফি জমা দিতে হয়।
গত ৭ আগস্ট দেশে ভারতীয় চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধে উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে এ রিট করেন শাহিন আরা লাইলী নামের একজন। বাংলাদেশে ভারতীয় চ্যানেলের সম্প্রাচার বন্ধের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না- তা জানতে রুল চাওয়া হয় ওই রিটে। স্বরাষ্ট্র সচিব, তথ্য সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও পুলিশের মহাপরির্দশকে এতে বিবাদী করা হয়েছে। রুলের পাশাপাশি বাংলাদেশে স্টার জলসা, জি বাংলা ও স্টার প্লাস এর সম্প্রচার সাত দিনের মধ্যে বন্ধেরও নির্দেশনা চান বাদী।
বাংলাদেশে সব ধরনের ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল দেখানো বন্ধ করতে গত ৩আগস্ট সরকারকে উকিল নোটিস দেন বাদীর আইনজীবী। তথ্য মন্ত্রী, তথ্য সচিব ও বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে ওই নোটিসের অনুলিপি পাঠানো হয়।
নোটিস অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিবাদীরা ব্যবস্থা না নেয়ায় এই রিট করা হয়েছে বলে আবেদনকারী জানান।
রিটে বলা হয়, ভারতীয় বিভিন্ন চ্যানেল বাংলাদেশে দেখানো হলেও ভারতে বাংলাদেশের কোনো চ্যানেল দেখানো হয় না। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় চ্যানেলের ‘অবাধ সম্প্রচারের’ কারণে দেশের টিভি চ্যানেলগুলো দর্শক হারাচ্ছে। আর দেশ হারাচ্ছে তার নিজস্ব সংস্কৃতি। এতে কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সর্বশেষ ভারতীয় চ্যানেলে প্রচারিত একটি সিরিয়ালের একটি চরিত্রের পোশাকের জন্য দুই জনের প্রাণও গেছে।
প্রসঙ্গত: ‘পাখির প্রেমে প্রাণ বিসর্জন’ শিরোনামে দৈনিক আমাদের সময়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করা হয় রিটে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল স্টার জলসার ‘বোঝে না সে বোঝে না’ সিরিয়ালের ‘পাখি’ চরিত্রের অভিনেত্রীর নামে বাজারে ছাড়া পোশাক এবার ঈদে জমজমাট ব্যবসা করে। নতুন স্ত্রীর বায়না অনুযায়ী ‘দামী’ এই পোশাক কিনে দিতে না পারায় বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের নন্দতেঘরী গ্রামের শাহীন নামে এক যুবক আত্মহত্যা করে। এছাড়া গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নূরজাহান নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলশিক্ষার্থীও একই পোশাক না পেয়ে আত্মহত্যা করে।