কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। বুধবার কিশোরগঞ্জের ৪নং আমলি আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ড. ফজলুল বারী মামলাটি আমলে নিয়ে এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
গত ২৩শে মার্চ অনুষ্ঠিত ইটনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে ১৯শে মার্চ রাতে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যানপ্রার্থী এসএম কামাল হোসেনের এক নির্বাচনী পথসভায় অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান বক্তৃতা করেন।
বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সম্পর্কে ফজলুর কুরুচিপূর্ণ ও উস্কানিমূলক কথা বলেন এ অভিযোগ করে মো. আলী হোসেন নামে এক আওয়ামী লীগ সমর্থক তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগ এনে ইটনা থানায় একটি জিডি করেন। গত ১৮ই আগস্ট পুলিশ নন এফআইআর মামলা হিসেবে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়।
পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ মার্চ রাতে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ইটনা পশ্চিমগ্রাম নূরপুর ডিডি মাদ্রাসা এলাকার মাঠে বিএনপি সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর দোয়াতকলম মার্কার পক্ষে বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি রাষ্ট্রপতি ও সরকার প্রধান সম্পর্কে বলেন আবদুল হামিদ, খন্দকার মোস্তাকের দলে ছিলেন যিনি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, আজকে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। এ কথা তিনি কিশোরগঞ্জে হাজার হাজার লোকের সম্মুখে বলেছে, পুলিশের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়।
ফজলুর রহমান আরও বলেন, এটা শেখ মজিবের আওয়ামী লীগ না, হাসিনা লীগ। শেখ হাসিনা তার গোষ্ঠী, সৈয়দ আশরাফের গোষ্ঠী, আবদুল হামিদ তার আত্মীয় স্বজন নিয়ে এ দল করেছেন। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি তথা রাষ্ট্রপ্রধান এবং শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সরকারের সরকার প্রধান।
তাদের সম্পর্কে ফজলুর রহমানের এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ ও উস্কানিমূলক বক্তব্য জনসাধারণের মধ্যে ঘৃণা, বিদ্বেষ, অবজ্ঞা, শত্রুতা, ক্ষোভ ও ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, মেয়ের ভর্তি এবং চিকিৎসার কারণে ফজলুর রহমান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
তবে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ফজলুর রহমানের উদ্ধৃত বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহীতার পর্যায়ে পড়ে না। রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে থেকে তার বিরুদ্ধে এ মামলা দেয়া হয়েছে।