রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে সহায়তার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বেনজীর আহমেদ। বুধবার আদালতে হাজির হয়ে তিনি তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি হয়।
শুনানি শেষে আদালত ওই কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি তদারক করতে ডিএমপিকে নির্দেশ দেয়। আদালত জানায়, খেয়াল রাখতে হবে কেউ যেন কবরস্থানের পবিত্রতা নষ্ট করতে না পারে।
এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একই বেঞ্চ ১০ সেপ্টেম্বর ডিএমপি কমিশনার, লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার ও লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেয়।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই তিন কর্মকর্তা আদালতে হাজির হন।
আদালতে পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তানজীব উল আলম। মূল রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ আসাদ উল্লা ও রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করীম।
আদালত বলেন, ‘কী সমস্যা ছিল, তা জানতে আমরা আদেশ দিয়েছিলাম।’ জবাবে ডিএমপির কমিশনার বলেন, ‘আদালতের আদেশ সবাইকে মানতে হবে। সিটি করপোরেশন আমাদের ১৬টি চিঠি দিয়েছে। এর কয়েকটিতে বলেছে, সহায়তা করেন। আবার কয়েকটিতে বলেছে, ফোর্স লাগবে। তবে কোনো দিনক্ষণ উল্লেখ করেনি।’
আদালতে বেনজীর আহমেদ বলেন, গত বছরের ২৯ নভেম্বরের আগ পর্যন্ত ৯০ শতাংশ দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়। তবে এ বছরের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমাদের কোনো চিঠি দেয়া হয়নি। গত ২ সেপ্টেম্বর আদালতের আদেশের বিষয়টি জানিয়ে ডিসিসি একটি চিঠি দিয়েছে। সেখানে এখন সার্বক্ষণিক ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। কার্যক্রমের অগ্রগতির কিছু স্থিরচিত্র আদালতে দাখিল করে কমিশনার বলেন, দ্রুতই কাজ শেষ হবে।
কবরস্থানের পশ্চিমাংশের ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই স্থানে সমাহিত ব্যক্তিদের একজনের সন্তান একেএম কাজী জাকির হোসেনসহ দুই ব্যক্তি ২০১২ সালের ১০ নভেম্বর একটি রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি পর ওই বছরের নভেম্বরে আদালত রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়। শুনানির পর আগের জায়গায় সীমানাপ্রাচীর পুনর্নির্মাণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়। তবে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে একটি আবেদন করে রিটকারী পক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিসিসির প্রতি আদালত অবমাননার রুল জারি হয়। ২০১৩ সালের ১ আগস্ট এক আদেশে সীমানাপ্রাচীর পুনর্নির্মাণে পুলিশের পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করতে মহানগর পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেয়া হয়। সূত্র : প্রথম আলো।