একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ২ মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন জজ মিয়ার মা জোবেদা খাতুন।
সোমবার বিশেষ এজলাসে ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারক মো. শাহেদ নূর উদ্দিনের কাছে তারা জবানবন্দি দেন।
ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি আবু আবদুল্লাহ ভূইয়া সাংবাদিকদের বলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর এ মামলায় জজ মিয়ার মা জোবেদা খাতুন সাক্ষ্য দেন। এবার তার বোন খোরশেদার সাক্ষ্য নেন বিচারক।
২১ আগস্ট হামলা মামলা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
উল্লেখ, ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ওই হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পরের বছর ৯ জুন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বিরকোট গ্রাম থেকে জজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ আদায়ের পর জজ মিয়াকে আসামি করেই ২০০৮ সালে চাঞ্চল্যকর এ মামলার অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
তবে পরে অধিকতর তদন্তে দেখানো হয়, ওই মামলাকে ‘ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য’ বিগত চারদলীয় জোট সরকারের নির্দেশে সিআইডি জজ মিয়াকে নিয়ে নাটক সাজানোর চেষ্টা করে।
সূত্রাপুর থানার একটি মামলায় সাত বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জজ মিয়াকে ‘রাজসাক্ষী করার আশ্বাস দিয়ে’ তার কাছ থেকে ‘মিথ্যা জবানবন্দি’ নেয়া হয় এবং সিআইডির মাধ্যমে তার পরিবারকে ‘মাসিক খরচের টাকা’ও দেয়া হত।
পরে হাইকোর্ট জজ মিয়াকে ২১ অগাস্টের মামলা থেকে অব্যাহতি দিলে ২০০৯ সালে মুক্তি পান জজ মিয়া।
আদালতের নির্দেশে ২০১১ সালের ৩ জুলাই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৩০ জনকে আসামির তালিকায় যোগ করে এ মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি।
তাতে জজ মিয়া ও তার মা জোবেদা খাতুন-বোন খোরশেদকে সাক্ষী করা হয়।
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৪৯১ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ১০২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। ৫২ আসামির মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৯ আসামি পলাতক।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ কমপক্ষে ২৪ জন নিহত ও শতাধিক আহত হন।
ও্ই হামলায় আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ওই হামলা চালানো হয়েছিল বলে পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে।