অর্থ আত্নসাতের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার চার্জ গঠনকে চ্যালেঞ্জ করে লিভ টু আপিলের নিস্পত্তি না হওয়ায় তার আইনজীবীদের সময়ের আবদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি মুলতবি করে সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ ৯ নভেম্বর ধার্য করেছে আদালত। রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক বাসুদেব রায় এ তারিখ ধার্য করেন।
এদিকে, নির্দেশনা থাকলেও রোববার নিরাপত্তাজনিত কারণে আদালতে হাজির হননি খালেদা জিয়া।
অর্থ আত্মসাতের দুইটি মামলায় পুরাণ ঢাকার বকশিবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৩ এর আস্থায়ী এজলাশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হাজিরের কারণে আদালত প্রাঙ্গণে নেয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা।
তবে খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায়, কার্যক্রম শুরু হলে তার আইনজীবীরা হাজির না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন। সেইসঙ্গে মামলার চার্জ গঠনকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে লিভ টু আপিলের নিস্পত্তি না হওয়ায় মামলার কার্যক্রম ও সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি চেয়ে সময়ের আবেদন করেন।
এদিকে, মামলার চার্জ গঠনকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে লিভ টু আপিলের শুনানির দিন ২৭ নভেম্বর থেকে এগিয়ে ৬ নভেম্বর ঠিক করা হয়েছে।
নির্দেশনা থাকার পরও খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করেন দুদকের আইনজীবী। আদালত ওই আবেদন নাকচ করেন এবং সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবী করে ৯ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন। ওই দিন খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশও দেন আদালত।
উল্লেখ্য, ওই মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ বাতিল চেয়ে খালেদা জিয়ার করা রিট ২৩ এপ্রিল হাইকোর্টে খারিজ হয়। এর বিরুদ্ধে ৭ জুলাই তিনি লিভ টু আপিল করেন।
এ আবেদনের শুনানির দিন ধার্যের জন্য খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আবেদন জানালে ১৪ অক্টোবর অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি ২৭ নভেম্বর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য করেন। তবে এ তারিখ এগিয়ে আনার জন্য ১৬ অক্টোবর দুদক একটি আবেদন করে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ অক্টোবর চেম্বার বিচারপতি আবেদনটি ২৩ অক্টোবর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন। শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ ৬ নভেম্বর আদেশের জন্য দিন ধার্য করে ছিলেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।