নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মামলার আসামী (র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) র্যাব-১১ এর ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিনকে চতুর্থ দফায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কেএম মহিউদ্দিন এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৃতীয় দফায় ৮ দিনের রিমান্ড শেষে রুহুল আমিনকে পুনরায় আদালতে হাজির করে চতুর্থ দফায় ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে শুনানী শেষে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ মণ্ডল বলেন, সাত জনকে অপহরণের পর স্প্রে করে অচেতন ও সবার মুখে পলিথিন বেধে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করেছিল বলে র্যাবের গ্রেপ্তারকৃত অন্য সদস্যরা আদালতে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করতে রুহুল আমিনকে আরো রিমান্ডের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর রাতে র্যাব সদস্য রুহুল আমিনকে পটুয়াখালী জেলার বাউফল নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করের পর ৮ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজির করে প্রথম দফায় ৭ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। ৭ দিনের রিমান্ড শেষে ১৫ অক্টোবর তাকে আদালতে হাজির করে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ ৫ জন হত্যা মামলায় দ্বিতীয় দফায় ৮ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
রিমান্ড শেষে গতকাল সোমবার সকালে রুহুল আমিনকে আদালতে হাজির করে সিনিয়র আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়ি চালক হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত শুনানী শেষে ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। তৃতীয় দফায় ৮ দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার সকালে রুহুল আমিনকে আদালতে হাজির করে আবার ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
সাত খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১১ জন র্যাব সদস্যসহ ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১০ জন র্যাব সদস্যসহ ১২ জন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আর ৯ জন র্যাব সদস্যসহ মোট ১৪ জন আদালতে স্বাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাত জন অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয় জনের ও ১ মে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।