একাত্তরের আল বদর বাহিনীর প্রধান জামাত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে-বুধবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ওইসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। হাইকোর্ট ও ট্রাইব্যুনালে প্রবেশের সবগুলো ফটকে পুলিশ ও র্যা ব অবস্থান নিয়েছে। ভেতরে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি তল্লাশিও করা হচ্ছে।
দোয়েল চত্বর থেকে হাইকোর্ট মাজার পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। হাইকোর্ট মাজার ফটকের বাইরে পুলিশের সাঁজোয়া যান অবস্থান করছে। শাহবাগ মোড়েও অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আজ রাজধানীসহ দেশব্যাপী নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গতকাল রাত থেকেই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, নিজামীর রায়কে কেন্দ্র করে হাইকোর্ট এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগরে থাকছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা। থাকছে তল্লাশি চৌকি, অতিরিক্ত টহল।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন জায়গায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
হাইকোর্ট পুলিশ ফাঁড়ির ওসি আবদুস সালাম জানান, আদালত এলাকায় প্রায় সাড়ে ৪০০ পুলিশ সদস্য বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন।
আদালত এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। কেউ অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইলে তাকে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডেপুটি রেজিস্ট্রার অরুনাভ চক্রবর্তী বলেন, যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়ের আগে প্রতিবারই নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশকে অনুরোধ করে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষ। এবারও তা করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল এলাকার মূল প্রবেশ পথে দুই সারিতে দাঁড়িয়ে আছে পুলিশ। আদালত চত্বরের প্রবেশপথে রয়েছেন র্যা ব সদস্যরা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ নিয়ে দ্বিতীয় দফায় এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত এই ট্রাইব্যুনাল গতকাল মঙ্গলবার রায় ঘোষণার এ দিন ধার্য করেন।
গতকাল সন্ধ্যায় তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।