মানবতাবিরোধী অপরাধে মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দশম মামলার রায় ঘোষণা করেছে। ট্রাইব্যুনালে রায়ের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে খোকন রাজাকার, মীর কাসেম আলি ও মোবারক হোসেনের মামলা।
একাত্তরের কসাই কাদের হিসেবে কুখ্যাত কাদের মোল্লার আপিলে মৃত্যুদণ্ড হলে সে রায় এর মধ্যেই কার্যকর হয়েছে। একইভাবে আপিলের চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি ভোগ করছেন একাত্তরের ‘দেইল্যা রাজাকার’ খ্যাত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। মৃত্যু হওয়ায় নিষ্পত্তি হয়েছে আব্দুল আলিমের মামলা।
একইভাবে নিষ্পত্তি হবে মৃত রাজাকার-শিরোমনি গোলাম আযমের মামলা। এখন আপিল বিভাগে শুনানির জন্য অপেক্ষমান রয়েছে আলি আহসান মুজাহিদ, মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলা। এছাড়া ট্রাইব্যুনালে আরো তিনজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিচার করার জন্য ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় খুন, হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, হত্যায় সহযোগিতা করা, ধর্মান্তরিত, দেশান্তরিত করাসহ বেশ কিছু অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযুক্তদের মধ্যে আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে প্রথম রায় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি ঘোষণা করা হয়। এরপর একে একে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মূল পরিকল্পনাকারী- রাজাকার শিরোমনি গোলাম আজম, দেল্লা রাজাকার ওরফে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আলবদর বাহিনীর কমান্ডার আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, ইসলামি ছাত্র সংঘের নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, রাজাকার আব্দুল আলীম, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, একাত্তরে দুই বদর নেতা আশরুফাজ্জামান খান ও চৌধুরী মুঈনদ্দীনের রায় ঘোষণা করা হয়। এদের মধ্যে গোলাম আজম ও আব্দুল আলীমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ছাড়া বাকি সবার মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
একাত্তরে কসাই কাদের হিসেবে পরিচিত কাদের মোল্লাকে ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়। পরে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়।
এ মুহূর্তে ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এ রায়ের জন্য অপেক্ষমান রয়েছ রাজাকার জাহিদ হোসেন খোকন, মীর কাশেম আলী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোবারক হোসেনের মামলা।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ, সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন সাজার আদেশ দিয়েছে।
এছাড়া, আব্দুল আলীমের মৃত্যু হওয়ায় শুনানি চলবে না বলে আদেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগে শুনানির আগেই ২৩ অক্টোবর, হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাজাকার শিরোমনি, যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমও।
এদিকে, ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত রাজাকার এটিএম আজহারুল ইসলাম, আবদুস সুবহান ও সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। এছাড়াও দলগতভাবে জামাত ও ব্যক্তিগতভাবে ১১ জনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে।