মানবতাবিরোধী অপরাধে আলবদর কমান্ডার ও জামাত নেতা মীর কাসেম আলীকে ফাঁসির রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত দুই সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনালের বাইরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তারা।
যুদ্ধাপরাধের দায়ে চট্টগ্রামের বদর কমান্ডার মীর কাসেমের ফাঁসির রায়ের মধ্য দিয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে জাতির কলঙ্ক মোচন ঘটেছে বলে মনে করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম।
সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত বাকি আটটিতে মোট ৭২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে জামাতের শুরা সদস্য মীর কাসেমকে।
জেয়াদ আল মালুম বলেন, চট্টগ্রামের ডালিম হোটেলে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমসহ অন্যদের হত্যা করে কর্ণফুলী নদীতে ভসিয়ে দেয়ার অভিযোগে মীর কাসেমকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়া অপহরণ, আটক, নির্যাতনের অভিযোগে ৭২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
জেয়াদ আল মালুম বলেন, আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, তৎকালীন জামাতের আমির গোলাম আযমের নির্দেশে ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা মীর কাসেম মুক্তিযোদ্ধা ও নিরস্ত্র সাধারণ মানুষকে হত্যা, নির্যাতন করেছে, যা মানবতা ও মানব ইতিহাসে অন্যতম অপরাধ। এ বিচারের মধ্য দিয়ে দায়মুক্তির আরেকটি ধাপ অতিক্রম করল।
রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কিনা জানতে চাওয়া হলে প্রসিকিউটর তুরীন আফরোজ বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে জাতি আজ দায়মুক্ত হলো।
২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রক্রিয়া শুরুর পর এটি ছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একাদশ রায়।