আলবদর নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের দেয়া এ রায়ের পর রিভিউ পিটিশন করার আর কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তুরীন আফরোজ।
মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী শেরপুরের আলবদর নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। সোমবার আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ৪ বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় দিয়েছে।
বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হলেন: বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
তুরীন আফরোজ বলেন, ‘এই যে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা, শান্তিকামী মানুষ ও মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করা হয়েছে ২টি অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল ঊচ্চ আদালতের রায়ে আজকে কিন্তু সর্ব সম্মতিক্রমে মেজরিটিতে মত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেয়াদ আল মালুম বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছিল মাননীয় আপিল বিভাগ অত্যন্ত আইনগতভাবে বহাল রেখেছে। ভুক্তভোগী, শহীদ পরিবার তাদের পক্ষ থেকে আমরা মনে করি প্রসিকিউশন তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে এবং দেশ বিচারহীনতার সাংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আরেক ধাপ সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।’
গত বছরের ৯ মে ময়মনসিংহের আল-বদর প্রধান কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে হত্যা ও গণহত্যার দুটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। অন্য দুটি অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরেকটিতে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
গত বছরের ৬ জুন ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন কামারুজ্জামান। আর ট্রাইব্যুনালে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির আদেশ হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় আপিল করেনি।
সুপ্রিম কোর্টে আপিল দাখিলের পর চলতি বছর ৫ জুন শুনানি শুরু হয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। এরপর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে আপিল বিভাগ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে করা তৃতীয় আপিলের রায় এটি।
এর আগে আপিল বিভাগে কাদের মোল্লা ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, রাজাকার শিরোমনি গোলাম আযমের আপিল শুনানি শেষের পর রায় আসে আপিল বিভাগ থেকে। এর মধ্যে কাদের মোল্লাকে আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ড দেয়। সাঈদী পেয়েছে আমৃত কারাদণ্ড ও রাজাকার শিরোমনি পান আমৃত কারাদণ্ড। তবে গোলাম আযম কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা যান। আর বিএনপি নেতা আবদুল আলীম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা যান।
পরে গত বছরের ডিসেম্বরে তার দণ্ড কার্যকর হয়। আর সাঈদীর আপিলের রায়ে তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় আপিল বিভাগ।