মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে আলবদর কমান্ডার কামারুজ্জামানকে সোমবার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের ৩য় রায় এটি। এর আগে 'কসাই কাদের' কাদের মোল্লা ও রাজাকার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিলের নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ।
এদিকে, গতকাল আলবদর কমান্ডার মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের ১১টি মামলার নিষ্পত্তি হলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। রায়ের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে খোকন রাজাকার, সৈয়দ মুহাম্মদ কায়সার, মোবারক হোসেনে, আব্দুস সুবহান এবং এটিএম আজহারুল ইসলামের মামলা।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের মধ্যে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে প্রথম রায় ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপর একে একে রাজাকার শিরোমনি গোলাম আযম, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আলবদর কমান্ডার আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, রাজাকার আব্দুল আলিম, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, একাত্তরের দুই আলবদর নেতা আশরাফুজ্জামান খান, চৌধুরী মঈনদ্দীন, আলবদর কমান্ডার মতিউর রহমান নিজামী এবং ২ নভেম্বর আলবদর কমান্ডার মীর কাসেমের রায় ঘোষণা করে ট্রাইব্যুনাল।
তাদের মধ্যে গোলাম আজমের ৯০ বছর ও আব্দুল আলীমের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ছাড়া বাকি সবার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। আর একাত্তরের কসাই কাদের হিসেবে পরিচিত কাদের মোল্লাকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
গোলাম আজম, আব্দুল আলীম, কাদের মোল্লা, দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী ও কামারুজ্জামানের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করে আসামিপক্ষ। আপিল বিভাগের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ড এবং দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।
সবশেষ, আজ- সোমবার কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দিল আপিল বিভাগ।
এছাড়া আব্দুল আলীমের মৃত্যু হওয়ায় তার সাজার বিরুদ্ধে আপিলের নিষ্পত্তি হয়েছে। আপিল বিভাগে শুনানির আগেই ২৩ অক্টোবর ৯০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রাজাকার শিরোমনি গোলাম আজম মারা যান। আর আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরীর আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
এদিকে, ট্রাইব্যুনালে আরেক অভিযুক্ত আব্দুস সুবহানের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এছাড়াও দল হিসেবে জামাত ও ব্যক্তিগতভাবে ১১ জনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে।