মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৭টি মামলায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে পাশাপাশি জামাতের কিছু শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল হান্নান খান। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেত্রকোনার রাজাকার কমান্ডার ওবায়দুল হক তাহের ও রাজাকার আতাউর রহমান ননীর চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ দুইজনের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন, অপহরণ, আটক, নির্যাতনসহ ৪টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
আসামীদের বিরুদ্ধে আনা এ অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৭টি মামলায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলার পাশাপাশি জামাতের কিছু শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধেও শিগগিরি তদন্ত শুরু করা হবে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার তাহের ও ননীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হবে বলেও জানান এ তদন্ত কর্মকর্তা।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেয় ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননী। এর মধ্যে ওবায়দুল হক রাজাকার কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত হয় এবং তার নেতৃত্বে আতাউর রহমানসহ রাজাকার বাহিনী নেত্রকোনার বারহাট্টা থানায় হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগের মতো অপরাধ সংগঠিত করে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এই দুইজনের বিরুদ্ধে ৪টি অভিযোগ চূড়ান্ত করে অভিযোগ পত্র চূড়ান্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
অভিযোগ গুলো হচ্ছে :
১. ৭১ এর ১৭ আগস্ট নেত্রকোনার বারহাট্টা থানার বাউসী বাজার থেকে ফজুলুর রহমানকে অপহরণ ও নির্যাতনের পর হত্যা। ৪০০-৪৫০ টি দোকান লুট।
২. ৪ অক্টোবর ফুটবলার দবির হোসেনকে অপহরণ পরে গুলি করে হত্যা।
৩. ১৯ অক্টোবর নেত্রকোনার বারহাট্টা থানার লাউফা গ্রাম থেকে মশরফ আলী তালুকদারসহ ১০ জনকে অপহরণ করে ঠাকুরাকোনা ব্রীজে ৭ জনকে গুলি করে হত্যা।
৪. ১৫ নভেম্বর বিরামপুর বাজার থেকে মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক বদিউজ্জামান মুক্তসহ ৬ জনকে অপহরণের পর হত্যা।