আপিল বিভাগ রায়ের লিখিত কপি প্রকাশের পর জামাত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের রায় সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যকর করা যাবে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, রায়ের কপি যখন কামারুজ্জামানের কাছে যাবে তখন প্রাণভিক্ষার জন্য তিনি সূযোগ পাবেন। রায়ের কপি কি পূর্ণাঙ্গ হবে, না-কি সংক্ষিপ্ত হবে এবং কখন এ কপি প্রকাশ করা হবে তা আদালতের বিষয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২০(৩) ধারা অনুসারে সরকারের নির্দেশে দণ্ড কার্যকর হবে। কাজেই এটা সরকার যেদিন ঠিক করবে, সেদিন দণ্ড কার্যকর হবে।
কামারুজ্জামানের ক্ষেত্রে দণ্ড কার্যকরে সংক্ষিপ্ত না পূর্ণাঙ্গ আদেশ লাগবে?— সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, ‘অনেকে বলছে সম্পূর্ণ রায় পেতে হবে। আমি বলেছি, সংক্ষিপ্ত রায়ে এটি (ফাঁসির আদেশ) কার্যকর করা যাবে। সম্পূর্ণ বিষয়টি এখন আদালতের ওপর নির্ভর করছে।’
এর ব্যাখ্যায় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সর্বশেষ আপিল বিভাগ রায় দিয়েছে। আপিল আদালত যে রায় দেন, সেটা ট্রায়াল কোর্টে যায়। ট্রায়াল কোর্ট সে অনুসারে সিদ্ধান্ত নেয়, মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে। এখন আপিল বিভাগ যদি সম্পূর্ণ রায়টা পাঠায় বা সিদ্ধান্ত নেয় সম্পূর্ণ রায়টা পাঠাবে, সেটা তাদের বিষয়। আদালত যদি মনে করে, সংক্ষিপ্ত রায় পাঠাবে, তাহলে সেটাও তাদের বিষয়।’
অ্যাটর্নি জেনারেল মনে করেন, ইতিমধ্যে কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ হয়ে গেছে। এই আদেশই ঊচ্চ আদালত বহাল রেখেছেন কি না, সেটাই তো জেল কর্তৃপক্ষের জানার বিষয়।
কাদের মোল্লার সঙ্গে কামারুজ্জামানের মামলার একটি জায়গায় তফাৎ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ কিন্তু ট্রাইব্যুনাল দেননি। তার ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। যেহেতু ট্রাইব্যুনালের রায়টা পরিবর্তন করা হয়েছে, সে ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের সম্পূর্ণ রায়টা দেয়ার বিষয় ছিল। তবে চূড়ান্ত কী হবে, সেটা সর্বোচ্চ আদালত যে সিদ্ধান্ত নেন, তার ওপর নির্ভর করছে।
মাহবুবে আলম বলেন, ‘সংক্ষিপ্ত রায়ে ফাঁসি কার্যকর করা যাবে, এটি আমার অভিমত। কামারুজ্জামানের মামলায় ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। এই রায় তো উনারা আগেই পেয়ে গেছেন। এখন এটা কার্যকর সময়ের ব্যাপার মাত্র।’ সময়ের ব্যাপারের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘এটা এক সপ্তাহ হতে পারে, তিন দিনও হতে পারে। এটা সুপ্রিম কোর্টের আদেশ পাওয়া সাপেক্ষে এক মাসও হয়ে যেতে পারে।’
এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার অভিমতে বলেন, কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডের রায় বিষয়ে রিভিউয়ের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, বিশেষ আইনে এ বিচার হচ্ছে, সাংবিধানিকভাবে এ আইন প্রটেকটেড।
কামারুজ্জামানকে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে মামলায় ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখে গত ৩ নভেম্বর রায় দেয় সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চে এ রায় ঘোষণা করা হয়। বেঞ্চের অপর তিনজন বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি মো.আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনালে দন্ডিতদের মধ্যে কামারুজ্জামান হলেন তৃতীয় ব্যক্তি, আপিল বিভাগে যার মামলার নিষ্পত্তি হলো। এর আগে জামাতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার আপিল নিষ্পত্তির পর ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর যাবজ্জীবন সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আপিল বিভাগ। এরপর গত বছর ১২ডিসেম্বর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর আপিলের দ্বিতীয় রায়ে জামাতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ট্রাইব্যুনালে দেয়া সাজা মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় আপিল বিভাগ।
একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুলাই কামারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সে থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।