মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামাত নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনের বিষয়ে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শিশির মনির বলেন, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর ৩০দিনের মধ্যে রিভিউ পিটিশন করা হবে।
রোববার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
আপিল বিভাগ থেকে এখনো পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়নি- এ কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে কামারুজ্জামানের আইনজীবী মনির বলেন, 'রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে আইনমন্ত্রী যে সময়সীমার কথা উল্লেখ করেছেন তা বিভ্রান্তিকর।'
তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের একজন ফৌজদারী আইন বিশেষজ্ঞ হয়েও জেলকোডের ৯৯১ ধারার অপব্যাখ্যা করেছেন। সম্ভবত রায় শোনার দিন থেকে সাত দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে জেলকোডের বিধান নেই। কিন্তু মৃত্যু পরোয়ানা গ্রহণ করার পর থেকে নতুন জেলকোড অনুযায়ী ১৫ দিন এবং পুরাতন জেলকোড অনুযায়ী ৭ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিধান রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর ৩০দিনের মধ্যে রিভিউ পিটিশন করার কথা বলেছেন কামারুজ্জামান। এ রিভিউ পিটিশন নিষ্পত্তি হওয়ার পর উনি সিদ্ধান্ত নেবেন রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইবেন কি চাইবেন না। তিনি (কামারুজ্জামান) স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন রিভিউ পিটিশন নিষ্পত্তি হওয়ার আগে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার কোনো পদক্ষেপ তিনি গ্রহণ করবেন না।’
উল্লেখ্য, শনিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে এক সেমিনার শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, কামারুজ্জামানকে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য সাত দিন সময় দেয়া হয়েছে, তা এখনও শেষ হয়নি। আপিল বিভাগ যে রায় দিয়েছেন তার ওপরই ব্যবস্থা নিতে হবে।
ওই সময় আইনমন্ত্রী আরো বলেন, 'জেলকোডের ৯৯১ ধারা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের রায় জানার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য আসামিকে সাত দিনের সময় দিতে হয়। সেটা কামারুজ্জামানকে দেয়া হয়েছে। এটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।'
মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের আলবদর প্রধান মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে গত সোমবার রায় ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।