নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার মোনায়েম হোসেন মনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
মনাকে জিজ্ঞাসাবারে জন্য সাত দিনের হেফাজতে চেয়ে নারায়ণগঞ্জের আদালতে হাজির করে পুলিশ। শুনানি শেষে হাকিম কে এম মহিউদ্দিন দুদিন রিমান্ডের নির্দেশ দেন।
ভারতে গ্রেপ্তার জেএমবি কমান্ডার শেখ রহমাতুল্লাহ ওরফে সাজিদের ভাই হিসেবে সোমবার রাতে আটক করা হলেও এলাকাবাসী তার ভাইয়ের নাম জানান মাসুম মিয়া।
ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি মনাকে গ্রেপ্তার করলেও তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আনেনি র্যা ব। র্যা ব-১১ এর কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ৫৪ ধারায় আটকের মামলা দিয়ে বুধবার ভোরে মনাকে বন্দর থানায় সোপর্দ করে।
বন্দর থানার ওসি নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মনার জঙ্গি সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না কিংবা ভারতে গ্রেপ্তার কথিত ভাইয়ের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
বুধবার নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার সাজিদ নারায়ণগঞ্জের মনার ভাই বলে সন্দেহ করলেও সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।
গত সোমবার ভারতের বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনার 'মূলহোতা' শেখ রহমতুল্লাহ সাজিদ ওরফে মাসুমের ভাইকে নারায়ণগঞ্জের ফরাজিকান্দা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যা ব।
তার নাম মো. মোনায়েম ওরফে মনোয়ার হোসেন ওরফে মনা।
র্যা বের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ জানান, সোমবার রাতে তাকে ফরাজিকান্দা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত শনিবার সাজিদকে কলকাতার দমদম বিমানবন্দর সংলগ্ন যশোর রোড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা, ভুয়া ভোটারকার্ড এবং প্যানকার্ড উদ্ধার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।
বর্ধমান থানা পুলিশ জানায়, সাজিদ বাংলাদেশি এবং জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) প্রধান কমান্ডার।
বর্ধমান বিস্ফোরণের ঘটনার 'মূলহোতা' হিসেবে চিহ্নিত সাজিদের মাথার দাম ১০ লাখ রুপি ঘোষণা করে ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএ)। বর্ধমান বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে এর আগে জেএমবির দুই সদস্য জিয়াউল হক ও সুজানা আলমকে গ্রেপ্তার করে এনআইএ।
সাজিদকে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতে জেএমবির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলার একটি মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করেই জঙ্গি তৎপরতা চালাতেন বলে দাবি করেছে এনআইএ।
প্রসঙ্গত, গত ২ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার খাগড়াগড়া এলাকায় একটি দোতলা ভবনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে দু'জন মারা যান। নিহত শাকিল আহমেদ ও সুবহান মণ্ডল জেএমবির সদস্য বলে পুলিশের দাবি।
ওই দিন বেলা ১২টার দিকে ভবনটিতে বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণ হয় বলে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ তখন দাবি করে।