একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজাকার কমান্ডার আখাউড়ার মোগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় সোমবার ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যতালিকায় এ মামলাটি এক নম্বরে রয়েছে।
২০০৯ সালের ৩ মে খোদেজা বেগম নামের এক নারী মোবারকের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থানায় মামলা করেন। মোবারক হাইকোর্টে আবেদন করে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। তার বিরুদ্ধে যখন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্ত চলছিল, তখন এ ট্রাইব্যুনাল তাকে জামিন দিয়েছিলেন।
গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। ১২ মার্চ ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে মোবারকের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠান।
গত বছরের ২৩ এপ্রিল হত্যা, অপহরণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মোবারকের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।
পাঁচ অভিযোগ:
১ম অভিযোগ, একাত্তরের ২২ আগস্ট মোবারক ও অন্য রাজাকারেরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানার টানমান্দাইল গ্রামের ২৬ জন ও জাঙ্গাইল গ্রামের সাতজনকে বাছাই করে তেরোঝুড়ি হাজতখানায় নিয়ে যান। ২৩ আগস্ট পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকাররা ওই ৩৩ জনকে দিয়ে গঙ্গাসাগর দীঘির পশ্চিম পাড়ে গুলি করে হত্যা করে মাটিচাপা দেয়।
২য় অভিযোগ, মুক্তিযুদ্ধকালে মোবারক ও অন্য স্বাধীনতাবিরোধীরা মিলে ‘আনন্দময়ী কালীবাড়ী’ নামের একটি হিন্দু মন্দিরের মূর্তি ভাঙচুর ও মালামাল লুটের পর এটি দখল করেন, পরে মন্দিরটির নাম রাখেন ‘রাজাকার মঞ্জিল’ ২৪ অক্টোবর মোবারক শিমরাইল গ্রামের আশুরঞ্জনকে অপহরণ করে আহত অবস্থায় চারদিন রাজাকার মঞ্জিলে আটকে রাখেন এবং ২৮ অক্টোবর তাকে কুড়লিয়া খালের পাড়ে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেন।
৩য় অভিযোগ, একাত্তরের ১১ নভেম্বর রাত আটটা-নয়টার দিকে মোবারক তার সশস্ত্র রাজাকার সহযোগীদের নিয়ে ছাতিয়ান গ্রামের আবদুল খালেককে অপহরণ করে সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যান ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। ওই রাতেই খালেককে তিতাস নদীর পশ্চিম পাড়ে বাকাইল ঘাটে নিয়ে গুলি ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়।
৪র্থ অভিযোগ, একাত্তরের ২৪-২৫ নভেম্বর বেলা দুইটা-আড়াইটার দিকে মোবারকের নেতৃত্বে রাজাকারের একটি দল খড়মপুর গ্রামের খাদেম হোসেন খানকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার স্টেশন রোড থেকে অপহরণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজে স্থাপিত সেনাক্যাম্পে আটকে রেখে নির্যাতন করে। ৬ ডিসেম্বর অন্য কয়েকজন বন্দীর সঙ্গে তাঁকেও কুড়লিয়া খালের পাড়ে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।
৫ম অভিযোগ, একাত্তরের ২৮-২৯ নভেম্বর রাত ১১টার দিকে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের সঙ্গে নিয়ে মোবারক খড়মপুর গ্রামের আবদুল মালেক ও আমিরপাড়া গ্রামের মো. সিরাজকে অপহরণ করেন। ৬ ডিসেম্বর সিরাজকে কুড়লিয়া খালের পাড়ে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।