রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শফিউল ইসলাম হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১১ জনের মধ্যে ৮ জনকে সোমবার দ্বিতীয় দফায় একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
দুই দিনের রিমান্ড শেষে সকালে রাজশাহী মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করা হয় ১১ আসামিকে। এসময় পুলিশ আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানায়। আদালত ৮ জনকে একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে।
গতকাল রোববার শিক্ষক শফউল হত্যার অভিযোগের মূল পরিকল্পনাকারীসহ ৬ জনকে আটক করে র্যাব।
পরে সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা আব্দুস সামাদ পিন্টু ও মূল হত্যাকারী কাটাখালী পৌর যুবদল নেতা আরিফুল ইসলাম মানিকসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় তারা।
আটক বাকি পাঁচ জন হলেন- পিন্টু, টোকাই বাবু, মামুন, কালু, সবুজ।
এদিকে সোমবার সকালে শফিউল হত্যার প্রতিবাদে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চলছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসি প্রগতিশীল শিক্ষকসমাজ।
এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবিতে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গত ১৫ নভেম্বর রাবি সিনেট সদস্য ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক একেএম শফিউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। বিশ্ববিদ্যালয় হাউজিং সোসাইটি (বিহাস) এলাকায় বাড়ি ফেরার পথে কে বা কারা তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শফিউলের ইসলামের ছেলে সৌমিন শাহরিদ জেভিনও তার বাবার হত্যায় ইসলামী জঙ্গি সংগঠনগুলোর জড়িত থাকার সন্দেহের কথা বলেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘণ্টা পাঁচেক পর আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২ নামে একটি ফেইসবুক পৃষ্ঠায় অধ্যাপক শফিউলকে ইসলামবিরোধী আখ্যা দিয়ে তাকে হত্যার দায় স্বীকার করা হয়। ওই ফেইসবুক পৃষ্ঠা কারা চালাচ্ছে সে তথ্য উদঘাটন করতে না পারলেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিহার থানার ওসি আলমগীর হোসেন গত শুক্রবার বলেন, আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ একটি নতুন সংগঠন বলে তাদের ধারনা। এ হত্যাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হত্যার ঘটনা নতুন নয়। ২০০৬ সালে খুন হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এস তাহের। ওই ঘটনায় রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল শিবিরের তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতিসহ ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়।
২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি অর্থনীতির অধ্যাপক ড. ইউনুসকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যার ঘটনায় জেএমবির দুই সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
প্রসঙ্গত: শনিবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম শফিউল ইসলামকে কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়।