আদালত

রেলে নিয়োগ দুর্নীতি: অভিযোগপত্র থেকে বাদ পড়ল মৃধা

ইউসুফ আলী মৃধা
ইউসুফ আলী মৃধা

চট্টগ্রামে রেলে ৬টি পদে নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ইউসুফ আলী মৃধাকে বাদ অভিযোগপত্র দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম মশিউর রহমান চৌধুরীর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক বলেন, রেলে খাদ্য পরিদর্শক (ফুড ইন্সপেক্টর) ও লোকো মাস্টারপদে নিয়োগে দুর্নীতি-সংক্রান্ত দুই মামলায় ইউসুফ আলী মৃধাকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, খাদ্য পরিদর্শক পদে নিয়োগ-সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় মৃধাকে বাদ দিয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী হাফিজুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। আর সহকারী লোকো মাস্টারপদে নিয়োগ-সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় মৃধাকে বাদ দিয়ে ৩২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গত ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই কোতোয়ালি থানায় খাদ্য পরিদর্শক পদে নিয়োগে দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলারও আসামি ছিলেন ইউসুফ আলী মৃধা। দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান মামলাটি দায়ের করেন।

আর ২০১২ সালে ১৩ সেপ্টেম্বরে মৃধাসহ ৩ রেল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। পরে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় দুদকের সহকারী পরিচালক এসএম রাশিদুর রেজা বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

এ মামলার অন্য ২ আসামি হলেন: রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) বরখাস্ত হওয়া ঊর্ধ্বতন ওয়েলফেয়ার কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া ও অতিরিক্ত প্রধান যন্ত্রপ্রকৌশলী হাফিজুর রহমান। সে সময় হাফিজুর রহমান নিয়োগ কমিটির আহবায়ক ও গোলাম কিবরিয়া সদস্য সচিব ছিলেন বলে জানা গেছে।

ও্ইতদন্তের পর কর্মকর্তারা জানান, পূর্বাঞ্চল রেলের ৬টি পদে ১০৬৯টির বেশিরভাগ পদেই মোটা অর্থের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ১১২ জন চৌকিদার, ৩৬৯ জন ট্রেড অ্যাপ্রেন্টিস, ২৪৮ জন সুইপার, ১৪৩ জন ট্রলিম্যান, ১৫ জন সহকারী সাব ইন্সপেক্টর ও ১৮২ জন লোকো মাস্টার পদে নিয়োগে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে।

তদন্তে দেখা গেছে, ট্রেড অ্যাপ্রেন্টিস পদে ১২১৬ কোড নম্বরধারী লিখিত পরীক্ষায় পেয়েছেন মাত্র ২ নম্বর। তা পরিবর্তন করে ২৫ নম্বর দেখানো হয়েছে।

এ রকম ৩৫টির বেশি কোড নম্বরের খাতায় কাটাছেড়া করে নম্বর দেয়া হয়েছে। টেবুলেশন শিটে জালিয়াতি করে অসংখ্য অকৃতকার্যকে কৃতকার্য দেখানো হয়েছে।

এছাড়া সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর পদের লিখিত পরীক্ষায় ৯৫ জনের মধ্যে মাত্র ৭ জন মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তবে ১১ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। এর মধ্যে ৬ জনই মৌখিক পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানের সময় ৩৯ জনের বক্তব্য শেষে ৬টি পদে নিয়োগে দুর্নীতির জন্য ৬টি মামলার সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেন অনুসন্ধান কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, গত ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল মধ্যরাতে রাজধানীর পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদরদপ্তরের ফটকে সাবেক রেলমন্ত্রীর সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএস (চাকরিচ্যুত) ফারুকের গাড়িতে ৭০ লাখ টাকা পাওয়া যায়।

রেলের পূর্বাঞ্চলের বরখাস্তকৃত জিএম মৃধা ও জিআরপি ঢাকার কমান্ড্যান্ট এনামুলও ওই গাড়িতে ছিলেন। পরদিন টাকা পাওয়ার ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে নবগঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয়।

অর্থ পাওয়ার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয় সারা দেশে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ফারুকের গাড়িতে ৭০ লাখ টাকা পাওয়া যায়, যা রেলে নিয়োগে ঘুষ হিসেবে নেয়া হয়েছিল।

এ ঘটনার জের ধরে ১৫ এপ্রিল জিএম মৃধা ও কমান্ড্যান্ট এনামুলকে সাময়িক বরখাস্ত এবং এপিএস ফারুককে চাকরিচ্যুত করেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। পাশাপাশি রেলের নিয়োগ প্রক্রিয়াও স্থগিত করা হয়।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

আল আমিনের তালাক: সন্তান নিয়ে আদালতে স্ত্রী

অস্ত্র মামলা: জি কে শামীমসহ ৮ জনের যাবজ্জীবন

আবেদন করলে খালেদা জিয়ার আবারো মুক্তির মেয়াদ বাড়বে: আইনমন্ত্রী

রুবেল-বরকতের অর্থপাচার মামলা ফের তদন্তের নির্দেশ আদালতের

জাহালমকে পাঁচ লাখ টাকা দিলো ব্র্যাক ব্যাংক

৮৫ নির্বাচন কর্মকর্তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের আদেশ বাতিল

সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে পূর্বানুমতি বাতিলের রায় স্থগিত

ডেসটিনির চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদের জামিন

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ