বলিউডের গুলশান কুমার হত্যা মামলার আসামি আবদুর রউফ ওরফে দাউদ মার্চেন্টকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
বুধবার গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক গোলাম রসুল ভারতের এ পলাতক আসামিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
দুপুরে শুনানি শেষে মহানগর হাকিম নুরু মিয়া জামিন আবেদন নাকচ করে দাউদ মার্চেন্টকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে দাউদের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন অ্যাডভোকেট হেমায়েত উদ্দিন হিরণ।
দাউদ মার্চেন্ট দুবাইয়ে থাকা ভারতীয় ‘মাফিয়া ডন’ দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসবে পরিচিত। অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকে ধরা পরার দায়ে পাঁচ বছর ধরে কারাগারে ছিলেন।
কাশিমপুরের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জ্যেষ্ঠ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, দাউদ গত ১৯ নভেম্বর আদালত থেকে জামিন পায় এবং সেই নথিপত্র কারাগারে পৌঁছায় ২৯ নভেম্বর। যাচাই-বাছাই শেষে সোমবার সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে তাকে কারাগার থেকে মুক্তিও দেয়া হয়।
এরপরই মঙ্গলবার ঢাকার খিলগাঁও চৌরাস্তা থেকে ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে ৪৫ বছর বয়সী দাউদ মার্চেন্টকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।
গোয়েন্দা পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ভারতীয় এ নাগরিকের কাছে পাসপোর্ট-ভিসা কিছুই পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে জঙ্গিদের যোগাযোগ আছে কি-না তা খতিয়ে দেখতে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে জানান নাম না প্রকাশে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, মুম্বাইয়ের সঙ্গীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টি-সিরিজের মালিক গুলশান কুমারকে ১৯৯৭ সালের ১২ আগস্ট আন্ধেরি এলাকার একটি মন্দির থেকে বেরিয়ে আসার সময় গুলি করে হত্যা করা হয়। এ হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন ভাড়াটে খুনি দাউদ মার্চেন্টকে গ্রেপ্তারের পর ২০০২ সালে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন দাউদ। তবে ২০০৯ সালে ১৪ দিনের পারোলে মুক্তি পাওয়ার পর পালিয়ে যান তিনি। ওই বছরের ২৮ মে ভারত সীমান্তবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে এক সহযোগীসহ তাকে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশের পুলিশ। পাসপোর্ট আইনে একটি মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। ওই সময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দাউদ অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান করছিলেন। ভারতের অপরাধ জগতের আলোচিত ডন দাউদ ইব্রাহিম বাংলাদেশে নিজের কর্মকাণ্ড বিস্তারের জন্য দাউদ মার্চেন্টকে এ দেশে পাঠান।