ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত। রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূর আগামী ১৫ মার্চ অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
বেলা ১১টার দিকে শুনানিতে অংশ নিয়ে লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া জামিনের আবেদন জানান।
তিনি অভিযোগ গঠনের শুনানির বিষয়ে দুই মাস সময়ের আবেদন জানান।
তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকী অসুস্থ। পরে আদালত লতিফ সিদ্দিকীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
গতকাল অসুস্থ বোধ করায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়।
হজ ও তাবলীগ জামাত নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করে মন্ত্রিত্ব ও আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের পর আত্মসমর্থন করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন তিনি।
বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুল মজিদ ভূইয়া জানান, বুকে ব্যথা অনুভব করায় লতিফ সিদ্দিকীকে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রিজন সেলের কেবিন ব্লকে লতিফ সিদ্দিকীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে টাঙ্গাইল সমিতির মতবিনিময় অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী হজ, তাবলীগ জামাত, প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাংবাদিকদের সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তার পুরো বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
লতিফ সিদ্দিকী ওই অনুষ্ঠানে বলেন,'আমি কিন্তু হজ আর তাবলীগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী।'
তিনি বলেন, 'এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার (জনশক্তি) নষ্ট হয়। এই হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গেছেন। এদের কোনো কাজ নাই। কোনো প্রডাকশন নাই, শুধু ডিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা বিদেশে দিয়ে আসছে।'
এ ঘটনার পর ১২ অক্টোবর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর পদ থেকে অপসারিত হন লতিফ সিদ্দিকী। একই দিন দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যের পদ থেকেও বহিষ্কৃত হন টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে পাঁচবারের নির্বাচিত এই এমপি।
গত ২৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও চূড়ান্তভাবে বহিষ্কৃত হন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।
পরে গত ২৩ নভেম্বর রাতে গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দেশে ফেরেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।
এরপর ২৫ নভেম্বর দুপুর সোয়া ১টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় আত্মসমর্পণ করেন লতিফ সিদ্দিকী। পরে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুর রহমানের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
এরপর থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারগারে আছেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।