আদালত অবমাননার দায়ে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এসওএম কলিম উল্লাহর দণ্ডাদেশ স্থগিত করে ৪ মাসের জামিন মঞ্জুর করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। মঙ্গলবার চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী সাবেক এমডির আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
পাশাপাশি দণ্ডাদেশের কার্যকারিতা এ সময় পর্যন্ত স্থগিত করে আট সপ্তাহের মধ্যে আপিল করতে বলা হয়েছে।
এর আগে ৪ ডিসেম্বর এসওএম কলিম উল্লাহর ৪ মাসের কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। জরিমানার ওই অর্থ প্রদানে ব্যর্থ হলে তাকে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। আদালত অবমাননার অভিযোগে অক্সিনেল সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির করা এক আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ আদেশ দিয়েছিলেন। এর বিরুদ্ধে কল্লিম উল্লাহ আবেদন করেন।
গত বছরের ১৪ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বিটিসিএলের এমডির দায়িত্বে ছিলেন কলিম উল্লাহ।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, অক্সিনেল সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি আন্তর্জাতিক ফোনকল আদান-প্রদানকারী একটি প্রতিষ্ঠান। ২০০৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিটিসিএলের সঙ্গে কাজ করছে। কল আদান-প্রদানে এ জন্য একে অপরকে অর্থও পরিশোধ করে। তবে এ লেনদেন বিষয়ে বিটিসিএলের সঙ্গে একটি বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিটিসিএল পাওনা বাবদ অক্সিনেলের কাছে ৬০ লাখ টাকা দাবি করে। এ বিরোধের বিপরীতে আইএফআইসি ব্যাংকে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি ছিল। এ অবস্থায় বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ৬৮ লাখ টাকা রেখে বাকি টাকা ছাড় করার বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে অক্সিনেল হাইকোর্টে আবেদন করলে গত বছরের ১৩ জুন হাইকোর্ট বিবাদীপক্ষকে কারণ দর্শাতে বলেন। বিটিসিএল এর জবাব দেয়নি। এমনকি আবেদনের বিষয়ে আপত্তিও জানায়নি।
গত বছরের ২৩ জুলাই হাইকোর্ট অক্সিনেলের আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর টাকা তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়। বিটিসিএল আপিল বা রিভিউ না করে ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর টাকা ছাড়ে আপত্তি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে একটি চিঠি দেয়। অক্সিনেলের পক্ষ থেকে নভেম্বরে আইনি নোটিশ দেয়া হলেও জবাব না পাওয়ায় আদালত অবমাননার আবেদনটি করা হয়।
এরপর জানুয়ারিতে আদালত অবমাননার রুল জারির পর নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
তখন আদালতের নির্দেশ অনুসরণ না করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলে ক্ষমা করে দিতে হবে কি না—এমন আইনগত প্রশ্নে আদালত অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে ৫ আইনজীবী মনোনীত করেন।
তারা হলেন : আইনজীবী রফিক-উল হক, রোকন উদ্দিন মাহমুদ, আজমালুল হোসেন কিউসি, ড. কাজী আকতার হামিদ ও মনজিল মোরসেদ।